
রাজধানীর ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের লাইন-১ ও লাইন-৫-এর অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আটটি ক্রয় প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয়েছে এবং বাকি তিনটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। প্রাক্-যোগ্যতা অর্জনকারী তিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটিই প্রস্তাব জমা দেয়।
অনুমোদিত পাঁচটি প্যাকেজের মধ্যে লাইন-১-এর সিপি-০২, সিপি-০৬, সিপি-০৯ ও সিপি-১০ এবং লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজের পূর্তকাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় এই দুই প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত রূপ অনুমোদন পেয়েছিল, যার মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত।
লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজের অধীনে ডিপোর ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, অপারেশন ও টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট সেন্টার এবং বিভিন্ন সাব-স্টেশন নির্মাণ করা হবে। ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ টাকার এই কাজের জন্য সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া সিপি-০৬ প্যাকেজে বিমানবন্দর স্টেশন থেকে নাড্ডা পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও তিনটি স্টেশন নির্মাণের জন্য ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করবে জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডা কনসোর্টিয়াম। লাইন-১-এর চার প্যাকেজে ব্যয় ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ কাজে ভ্যাট ও করসহ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৮ টাকা। এতে দুটি সুড়ঙ্গ ও তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে—বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খেলক্ষেত। টিবিএম চালুর জন্য শ্যাফটও নির্মাণ করা হবে। এই প্যাকেজে ভ্যাট ও করসহ ব্যয় হবে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার ২৯৯ টাকা। তাদের দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের তুলনায় ভ্যাট ও কর বাদে ৩২ দশমিক ০৫ শতাংশ বেশি।
সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক নির্মাণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ওভারহেড লাইন স্থাপনের কাজ ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় সম্পন্ন হবে। এই কাজের দায়িত্ব পেয়েছে ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি) ও সুমিতোমো। একইসঙ্গে সিপি-১০ প্যাকেজের আওতায় সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্মের স্বয়ংক্রিয় দরজা স্থাপনে ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে, যা লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেড বাস্তবায়ন করবে। সিপি-০৯ প্যাকেজে রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংসহ ট্র্যাক নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রায় শূন্য দশমিক ৯ কিলোমিটার উড়ালপথ ও পাঁচটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ টাকার এই প্রকল্পটি চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
বৈঠকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশকৃত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে লাইন-১-এর সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরা থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত প্রধান লাইন নির্মাণ, যার চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এই কাজের জন্য জাপানের টোকিউ-মিল যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া সিপি-০৭ প্যাকেজে বালু নদী পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার পথ নির্মাণের জন্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ টাকার প্রস্তাব সুপারিশ করা হয়েছে, যা সিআরইসি-মিল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগকে দেওয়া হয়েছে।
লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণকাজের জন্য ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার সুপারিশকৃত প্রতিষ্ঠান হলো কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। প্রকল্পটি ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এতে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে অর্থায়ন করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০