
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এই আদেশ দেন। এদিন নির্ধারিত শুনানির দিনে আদালতে হাজির হতে না পারায় তার জামিন বাতিল করা হয়েছে। পরীমণির পক্ষ থেকে সময় চেয়ে করা আবেদনে বলা হয়, এদিন মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। অন্যথায় তার অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। পরে ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় নাসির উদ্দিনকে তাদের সঙ্গে বসার অনুরোধ করেন পরীমণি।
পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা সুরভী জানিয়েছেন, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে অভিনেত্রী আদালতে সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি। এ কারণে পরবর্তী ধার্য তারিখের আবেদন করা হলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি। অপর এক সূত্র জানিয়েছে, মামলার বাদী নাসির উদ্দিন আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামির জামিন বাতিলের আবেদন জানিয়েছিলেন। এসময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না বলে আদালত এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বোট ক্লাবের ঘটনা ঘিরে মামলার সূত্রপাত।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার আদালতে পরীমণিসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন সাভারের বোট ক্লাবে পরীমণি ও তার সহযোগীরা তাকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে উত্যক্ত করেন এবং বিনা মূল্যে অ্যালকোহল দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে গালমন্দ করা হয়।
প্রত্যাখান করলে তারা নাসির উদ্দিনের ওপর চড়াও হন, সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন এবং তাকে হত্যার হুমকি দেন। পাশাপাশি হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিনের মাথা ও বুকে আঘাত লাগে।
পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়। যদিও আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।
তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি আদালত পরীমণি ও জিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীমণিও সাভার থানায় নাসির উদ্দিন ও তার সঙ্গীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন। সেই মামলাটি বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলাটি আইনি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০