
আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনে ৯২ ওভার বোলিং করেও প্রতিপক্ষের সাতটি উইকেট তুলে নিতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। ম্যাচটি ড্র হওয়ায় নিজেদের হতাশার কথা লুকাননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে তা কাজে লাগাতে বদ্ধপরিকর তিনি। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে গত রাতেই টেস্ট দলের অধিকাংশ সদস্য দেশে ফিরেছেন। আগামী ১৮ অক্টোবর ঢাকায় পৌঁছাবে ক্যারিবীয় স্কোয়াড এবং এর ঠিক ১০ দিন পরই মাঠে গড়াবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই লড়াইয়ে বাংলাদেশকে হারানোর হুমকি দিয়ে রেখেছেন তাদের প্রধান কোচ ড্যারেন সামি। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে এই সিরিজে জয় পেলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ না হারলেও ড্র-তে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে শান্তদের। পিচের কথা বললে কন্ডিশন ও আবহাওয়া বিবেচনায় বিচার করা কঠিন।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত জানান, স্লো ও ফ্ল্যাট উইকেটে সুযোগ খুবই কম আসে, যা কাজে লাগাতে না পারলে পস্তাতে হয়। টানা পাঁচ দিন টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা কম থাকায় আবুধাবি টেস্ট তাদের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। ফিল্ডিংয়ের সময় ক্যাচ ও রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শান্ত বলেন, ভুলগুলো স্বীকার করে নিয়ে তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পেসার হাসান মাহমুদ প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেও এবং ইবাদত হোসেন চেষ্টা চালালেও ছোট সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ থেকেই যায়। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর পাঁচ দিনব্যাপী লড়াইয়ের এই অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দলনেতা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিপক্ষের পুরো ১০ উইকেট নিতে না পারাটা হতাশার বলে জানান তিনি। মাঝখানে তিন থেকে চারটি সুযোগ ফসকে যাওয়ার কারণেই জয় হাতছাড়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শান্ত। উইকেট বা টিম কম্বিনেশন প্রধান সমস্যা ছিল না; আমাদের মূল ঘাটতি ছিল সুযোগগুলো গ্রহণ করতে না পারা। অবশ্যই আমাদের যে মানের বোলিং অ্যাটাক ছিল, দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের ১০টি উইকেটই নেয়া উচিত ছিল। আমরা সাধারণত টানা পাঁচদিন টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে কম যাই; অনেক সময় চারদিনে ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। এই ভুলগুলো সামনের টেস্ট ম্যাচগুলোতে আমাদের সাহায্য করবে। সেদিকুল্লাহ যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তা প্রশংসনীয়।
ম্যাচে দুই ইনিংসে ফিফটি ও সেঞ্চুরির পাশাপাশি উইকেটের পেছনে নয়টি ডিসমিসাল করে ম্যাচসেরা হয়েছেন লিটন দাস। লিটনের এই ঘুরে দাঁড়ানোকে দলের জন্য বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেছেন অধিনায়ক। আগামী ২৮ অক্টোবর ঢাকায় এবং ৫ নভেম্বর সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এদিকে শাই হোপ ও আলজারি জোসেফকে বাদ দিয়েই ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই)। ঘরের মাঠে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে প্রস্তুত রয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। লিটনের পারফরম্যান্স নিয়ে শান্ত আরও বলেন, কঠিন গরমে দুই ইনিংসে ব্যাট করার পরও দীর্ঘ সময় কিপিং করা অসাধারণ ব্যাপার, যা দলের বাকিদেরও আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০