
ঢাকায় আজ পর্দা উঠছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের। গতকাল জাতীয় স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মাঠের চারপাশ ঘিরে বসানো হয়েছে ইলেকট্রনিক বিলবোর্ড এবং সন্ধ্যায় গায়ক সঞ্জয়ের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মহড়াও শেষ হয়েছে। আজ থেকে শুরু হওয়া এই আসরে মাঠের লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন ফুটবলপ্রেমীরা। মাঠের চারপাশে চলছে ইলেকট্রনিক বিলবোর্ড বসানোর কাজ। এক প্রান্তে গায়ক সঞ্জয়ের নাচ-গানের মহড়া মাত্র শেষ হয়েছে। মাঠের রোমাঞ্চকর ফুটবলই এখন পারে এসব ঘাটতি ভুলিয়ে দিতে। কোচের চোখ ট্রফিতে, হামজাকে উপহার দিয়ে শুরু করতে চান তপু।
১৯৯৩ সালে পাকিস্তানে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ৩৩ বছরের ইতিহাসে সাফের ১৪টি আসরের মধ্যে ৯টিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। তবে তারা এবার মূল দলের পরিবর্তে অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠিয়েছে। ভারতের মূল দলটি একই সময়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলছে। এর আগে ২০০৯ সালেও দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে ঢাকা থেকে শিরোপা জয়ের নজির আছে তাদের। তবুও ভারতের মূল দলের অনুপস্থিতি এবং ফিফা নিষেধাজ্ঞায় নেপালের ছিটকে পড়ায় ২৩ বছর পর বাংলাদেশের সামনে শিরোপা পুনরুদ্ধারের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারতের মূল দল না আসাটা অন্য দলগুলোর জন্য নিশ্চিতভাবেই একটা স্বস্তি, বিশেষ করে স্বাগতিক বাংলাদেশের জন্য। লাগেজ আসেনি ঢাকায়, অনুশীলন ছাড়াই ভারতের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান।
নিজ দেশের দর্শকদের সামনে এবারই সবচেয়ে শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে নামছে বাংলাদেশ। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমসহ ১০ জন প্রবাসী ফুটবলারকে নিয়ে গড়া দলটি শিরোপা জিততে বদ্ধপরিকর। দলের লক্ষ্যপূরণ না হলে তা বড় ব্যর্থতা হিসেবেই দেখা হবে। এদিকে, ১৬ প্রবাসী ফুটবলার নিয়ে গড়া শ্রীলঙ্কা দল এবং পাকিস্তানও এবারের আসরে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে, যদিও পাকিস্তানের কিছু ফুটবলার ক্লাবের ছাড়পত্র না পাওয়ায় এখনো দলে যোগ দিতে পারেননি। মালদ্বীপ দুবার এবং বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান একবার করে শিরোপার স্বাদ পেয়েছে। তবে ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান ২০১৮ থেকে সাফে না থাকায় টুর্নামেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিছুটা কমে যায়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফেরাতে ২০২৩ আসরে অতিথি দল হিসেবে কুয়েত ও লেবাননকে আনা হলেও ভারতকে রোখা যায়নি। শুধু বাংলাদেশই নয়, ১৬ প্রবাসী নিয়ে গড়া শ্রীলঙ্কা দলও এবার সমীহ আদায় করছে। দল সেমিফাইনালে উঠলে তাঁরা যোগ দেবেন। সব মিলিয়ে এবারের সাফ চ্যাম্পিয়ন যেন প্রবাসীদের লড়াইয়ের এক মঞ্চেই পরিণত হতে যাচ্ছে। তাঁর কথা যেন শান্তির পতাকাই উড়িয়ে দিয়েছে।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে আজ বেলা সাড়ে তিনটায় মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান। দুই দেশের বৈরী রাজনৈতিক সম্পর্কের ছাপ মাঠের খেলায় পড়বে কি না—এমন প্রশ্নে ভারতের কোচ নওশাদ মুসা স্পষ্ট করেছেন, তাঁরা পাকিস্তানের ফুটবলারদের সঙ্গে করমর্দন করবেন এবং প্রয়োজনে কোলাকুলিও করবেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ম্যাচে ফারহান আলী ওয়াহিদের জার্সি যেন তাঁর দলের কোনো ফুটবলার না নেয়। যদি কেউ নেয়, তবে তাকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। কারণ, ফারহানেরটা নাকি তিনি নিজেই নেবেন।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন বাকি পাঁচ দল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছে।
শ্রীলঙ্কার কুয়েতি কোচ আল মুতাইরি রসিকতার ছলে বাংলাদেশকেই এবারের আসরের ফেবারিট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে, এবারই প্রথমবারের মতো সাফের ইতিহাসে ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আসরটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে ট্রফি উন্মোচনের অভাব, হোটেল ও বিমানবন্দর সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রচারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে কিছুটা অসন্তোষও রয়েছে। মাঠের ফুটবলের পারফরম্যান্স দিয়েই এই ঘাটতিগুলো ঢাকার প্রত্যাশা আয়োজকদের।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০