
রাজধানীর বাজারগুলোতে আবারও বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেতারা চাহিদামতো ১, ২ বা ৫ লিটারের বোতল খুঁজে পাচ্ছেন না। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলো বাজারে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করছে না। ফলে দোকানে থাকা সীমিত মজুত নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদি দোকানি ইমাম পাটোয়ারি জানান, তার দৈনিক ১০ কার্টন তেলের প্রয়োজন হলেও ডিলার থেকে পেয়েছেন মাত্র ৪ কার্টন। ফলে নিয়মিত গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে অনেক দোকানি গোপনে পণ্য মজুদ রাখছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কল্যাণপুর নতুন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। আবার যতটুকু সরবরাহ আছে, তারও সব বিক্রেতারা প্রকাশ্যে রাখছেন না। এর কারণ জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদি বিক্রেতা ইমাম পাটোয়ারি বলেন, ‘আমার দৈনিক প্রায় ১০ কার্টন সয়াবিন তেল লাগে। ডিলারের থেকে পেয়েছি ৪ কার্টন; কিন্তু নিয়মিত গ্রাহকেরা চাইলে তো দিতেই হয়। তাই কিছু বোতল সরিয়ে আলাদা সংরক্ষণ করি।’। চলতি বছরের শুরুতেই ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ–সংকট শুরু হয়েছিল।
বিক্রেতাদের অভিযোগ, তেল কোম্পানিগুলো বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। ডিলারদের পক্ষ থেকেও তাদের এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গত ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যসচিবের কাছে তেলের দাম বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বুধবার সিলেটে জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টি যাচাই-বাছাই না করে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।
চলতি বছর এর আগেও কয়েক দফায় সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছে বাজার। গত এপ্রিলে দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা এবং ৩ সেপ্টেম্বর ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এবার সংকট বাড়ার সাথে সাথে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেড়েছে। টিসিবির তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ১৯০-১৯৫ টাকায় এবং পাম তেলের দাম শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ১৭০-১৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ খোলা বাজারে লিটারপ্রতি দাম ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে লিটার ১৯০-১৯৫ টাকায় উঠেছে।
এদিকে নিত্যপণ্যের বাজারে শুধু তেল নয়, ডিম ও মুরগির দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। গত এক সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়ে ১৫৫-১৬০ টাকায় পৌঁছেছে। পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে এক হালি ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে ৫৫ টাকা, অর্থাৎ প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে ১৫ টাকা। নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এটি বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
রাজধানীর বাজারে গত দুই মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকার কাছাকাছি স্থিতিশীল রয়েছে। মাছের বাজারেও অস্বস্তি কমেনি। রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৮০-৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০-২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষ আনসার হোসেনের মতো অনেকেই বলছেন, মাছ-মাংস ও ডিমের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের কারণে দৈনন্দিন সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারদর স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম আগের মতোই বেশি দামে স্থিতিশীল রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০