
বিএনপি সব সময় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবিচল। জাতীয় প্রেস ক্লাবে দলের স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। হান্নান শাহ স্মৃতি সংসদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা সরকারের অংশ উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, প্রত্যেক কর্মীকে সহিষ্ণুতার সঙ্গে কাজ করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলের লুটপাট ও অরাজকতার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। সাধারণ মানুষ যেন বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সেই পুরোনো দুঃশাসনের ছায়া না দেখে। বরং সবাই যেন অত্যন্ত সহনশীলতার পরিচয় দেয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার জনজীবনের সবকিছু লুট করেছে; এমনকি মানুষের জায়গা-জমি ও গৃহপালিত গরু পর্যন্ত ছাড়েনি। সেই অরাজকতার বিপরীতে বিএনপি আইনের শাসন নিশ্চিত করতে চায়।
তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পদ-পদবি বা ঠিকাদারি পাওয়ার নেশায় মেতে না থেকে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সংগ্রামের ইতিহাস বিসর্জন দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে বড় কোনো অর্জন সম্ভব হবে না। আসন্ন দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পরাজিত শক্তি ও তাদের মদদদাতারা যেন নাশকতা ঘটিয়ে সরকারের ইমেজ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য নেতাকর্মীদের ঘুমহীন প্রহরীর মতো সজাগ থাকতে হবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাশ্রমে নজরদারি ও পাহারার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সারের ডিলার আর ঠিকাদারি পাওয়ার জন্য যদি এতদিনের সংগ্রামকে বিক্রি করে দিই, তাহলে আমরা কখনো বড় অর্জন করতে পারবো না। সরকার এসব সংকট মোকাবিলা করে মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে।
দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কারণে ডিজেল আমদানিতে বাধার সৃষ্টি হয়েছে, যা শীতকালীন সবজি ও রবিশস্য উৎপাদনে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে রান্নাঘরের চুলা ও মিল-কলকারখানায় পুনরায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরছে। গোটা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে তারা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তিনি আরও বলেন, চুলা জ্বলছিল না, মিল-কলকারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। আল্লাহর রহমতে রান্নাঘরের চুলা এখন আবার জ্বলতে শুরু করেছে।
হান্নান শাহের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসের এক অগ্নিগর্ভ প্রতীক। ওয়ান-ইলেভেনের সংকটময় মুহূর্তে এবং কারাবন্দি থাকা অবস্থাতেও তিনি দলের প্রতি নিজের কর্তব্য ও নিষ্ঠা বিসর্জন দেননি। তার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার প্রশংসা করেন। কারাবন্দি অবস্থায়ও দলের প্রতি তার কর্তব্যনিষ্ঠা অটুট ছিল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন। এছাড়া বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০