
বাংলাদেশে দীর্ঘ ১২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসা বিদেশি খাতের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবার তাদের রিটেইল এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা (সিএমএসএমই) থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করছে। ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, বৈশ্বিক ব্যবসায়িক পুনর্গঠন কৌশলের অংশ হিসেবেই ব্যাংকটি তাদের খুচরা ব্যাংকিং পোর্টফোলিও বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাও শুরু হয়েছে, যা চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
ব্যাংকটির সাম্প্রতিক বৈশ্বিক কৌশল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মুনাফার হার কম হওয়ার কারণে খুচরা ব্যাংকিংয়ের চেয়ে করপোরেট, ট্রেড ফাইন্যান্স এবং উচ্চ আয়ের গ্রাহকদের সেবায় অধিক মনোযোগ দিচ্ছে তারা। ব্যাংকটির দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রিটেইল ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ শাখা নেটওয়ার্ক, প্রযুক্তি অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের ব্যয় করতে হয়, তার বিপরীতে করপোরেট ব্যাংকিং থেকে আয়ের সুযোগ অনেক বেশি।
২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের মোট ঋণের প্রায় ২৮ শতাংশ বা ৮ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা রিটেইল ও সিএমএসএমই খাতের। এছাড়া ব্যাংকটির মোট ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানতের মধ্যে ৮ হাজার কোটি টাকাই রিটেইল আমানত। বর্তমান পোর্টফোলিওতে ব্যক্তিগত ঋণ, গৃহঋণ, ক্রেডিট কার্ড ও সঞ্চয়ী হিসাবসহ বিশাল গ্রাহক ভিত্তি রয়েছে। স্থানীয় কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক এই কার্যক্রম অধিগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।
১৯০৫ সালে এই অঞ্চলে যাত্রা শুরু করা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে না। বরং তারা করপোরেট ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে চায়। যদি এই বিক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকদের আমানত, ঋণ ও কার্ড সেবা নতুন মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের আওতায় স্থানান্তরিত হবে।
এ বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের প্রধান বিটপী দাশ চৌধুরী জানান, বাজারসংক্রান্ত গুঞ্জন বা জল্পনা-কল্পনার বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেন না। তিনি আরও বলেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড গ্রুপ নিয়মিতভাবে তাদের বৈশ্বিক ব্যবসায়িক মডেলের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে এবং গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক সেবা নিশ্চিত করতে সম্পদ কেন্দ্রীয়করণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পরিকল্পনার কথা অবগত আছে, তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড একটি বিদেশি ব্যাংক এবং তারা নিজেদের কৌশল অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক রয়েছে যেন কার্যক্রম হস্তান্তরের সময় গ্রাহক বা কর্মীরা কোনো ধরনের হয়রানি বা সমস্যার মুখে না পড়েন। কোনো অবস্থাতেই নিয়মের বাইরে গিয়ে কাউকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে করপোরেট ব্যাংকিং, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়ন, ট্রেজারি ও ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হলে রিটেইল পোর্টফোলিও হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই মূলধন করপোরেট ব্যাংকিংয়ে ব্যবহার করলে তুলনামূলক বেশি আয় সম্ভব হওয়ায় আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো ব্যবসার অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের ব্যবসার কতটা বিক্রি হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ধরনের লেনদেন ে গ্রাহকদের অর্থ বা হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন মালিকানায় চলে যাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে বিভিন্ন অধিগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০