
বগুড়ায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা কাটছে না।
জেলার ১১টি উপজেলায় নতুন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। যদিও শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার তালিকা গত ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছিল, তবে বাকি উপজেলাগুলোর নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তার স্বাক্ষরিত স্মারকে শিবগঞ্জের নয়টি ইউনিয়নে নয়জন এবং মোকামতলার আটটি ইউনিয়নে আটজন ডিলারের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও অবশিষ্ট ১১ উপজেলার ১৪১টি ইউনিয়নের তালিকা আটকে থাকায় আবেদনকারীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। অন্য ১১ উপজেলার তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি। গত ৬ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তার স্বাক্ষরিত স্মারকে মোকামতলার আট ইউনিয়নে আটজন এবং শিবগঞ্জের ৯ ইউনিয়নে ৯ জন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বাকি ১১ উপজেলার ১৪১ ইউনিয়নের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
সার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় একজন করে সার ডিলার নিয়োগের এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনের সঙ্গে দুই হাজার টাকা অফেরতযোগ্য ফি এবং দশ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য জামানত জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল। বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডিলারশিপ পেতে মোট এক হাজার ২৬৬ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম ধাপে প্রায় আট শতাধিক আবেদনকারী বাদ পড়েছেন, তবে অনেক আবেদনকারীই তাদের বাদ পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে অবগত নন বলে অভিযোগ করেছেন। আবেদন আহ্বানের পর বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সার ডিলার হওয়ার জন্য আবেদন করেন ১,২৬৬ জন। এ জন্য আবেদনের সঙ্গে ২,০০০ টাকা অফেরতযোগ্য ফি এবং ১০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য জামানত জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক আবেদনকারীর অভিযোগ, আগে থেকেই উপজেলা পর্যায়ে তালিকা তৈরি করে রাখা হয়েছিল, যে কারণে বাছাই পর্বে অনেকে বাদ পড়েছেন। অর্থের বিনিময়ে তালিকা চূড়ান্ত করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠে আসছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবং দেশের অন্যান্য স্থানে সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে সৃষ্ট অসন্তোষের কারণে সরকার বগুড়ার বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে, যদিও কবে নাগাদ তা প্রকাশ করা হবে, সেই সুনির্দিষ্ট তথ্য কারও কাছেই নেই।
বগুড়া জেলায় সার ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদনের বিপরীতে ব্যাপক সাড়া পড়েছিল। এর মধ্যে বগুড়া সিটি করপোরেশনে একটি পদের বিপরীতে ১৬টি, বগুড়া সদরে ১১টির বিপরীতে ৭৪টি, শাজাহানপুরে ৯টির বিপরীতে ১১৪টি এবং শেরপুরে ১১টির বিপরীতে ১১৮টি আবেদন জমা পড়ে। এছাড়া ধুনটে ১৩টির বিপরীতে ১৬৪টি, গাবতলীতে ১৯টির বিপরীতে ১৬২টি, সারিয়াকান্দিতে ২১টির বিপরীতে ১৬৩টি, সোনাতলায় আটটির বিপরীতে ৮১টি এবং শিবগঞ্জের ১৬টির বিপরীতে ৪৯টি আবেদন পাওয়া যায়। তালিকায় থাকা অন্যান্য উপজেলার মধ্যে মোকামতলায় ৩৭টি, কাহালুতে ১০০টি, দুপচাঁচিয়ায় ৭২টি, আদমদীঘিতে ৬২টি ও নন্দিগ্রামে ৫৪টি আবেদন জমা পড়েছে। এছাড়া বগুড়া সদরে ১১টির বিপরীতে ৭৪টি, শাজাহানপুরে ৯টির বিপরীতে ১১৪, শেরপুরে ১১টির বিপরীতে ১১৮, ধুনটে ১৩টির বিপরীতে ১৬৪, গাবতলীতে ১৯টির বিপরীতে ১৬২, সারিয়াকান্দিতে ২১টির বিপরীতে ১৬৩, সোনাতলায় আটটির বিপরীতে ৮১, শিবগঞ্জের ১।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত কেবল দুটি উপজেলার তালিকা কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত হয়ে এসেছে। জেলা পর্যায়ের ১২ সদস্যের একটি কমিটির মাধ্যমে বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই কমিটিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। কমিটির সদস্য এনামুল হক সুমন জানিয়েছেন, উপজেলা পর্যায় থেকে যাচাই শেষে প্রতি পদের বিপরীতে তিনজন করে প্রার্থীর নাম জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং পরে জেলা কমিটির চূড়ান্ত তালিকা গত ২৪ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কমিটির প্রতিনিধি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা কার্যালয় থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনটি করে আবেদন ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পর্যায়ের ১২ সদস্যের কমিটিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, যুগ্ম পরিচালক (সার), উপপরিচালক (বীজ বিপণন), বিসিআইসি বাফার গুদামের ইনচার্জ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও নিয়োগ নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। বগুড়া সদর-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা জানান, এই প্রক্রিয়াটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর এলাকা হিসেবে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে, তাই এ বিষয়ে তার কাছে বিশেষ কোনো তথ্য নেই। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার। জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও কৃষি (বীজ-সার) উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দিন ফিরোজ নিশ্চিত করেছেন যে, উপজেলা থেকে আসা তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতার ফলে অনেক প্রার্থী সরাসরি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। নিয়োগের সুপারিশ পেতে রাজনৈতিক লবিংয়ের এই চর্চা সাধারণ আবেদনকারীদের মধ্যে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন চূড়ান্ত তালিকার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার অপেক্ষা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই প্রার্থীর সামনে। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি কবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০