
ফ্রান্সে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দেশটির প্রায় ৪০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। মূলত গত সপ্তাহে রাজধানী প্যারিসে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ অতি দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে, যারা মূলত ‘লিসে’ বা উচ্চবিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা: জামায়াতের আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা। ময়মনসিংহে অটোরিকশায় বাসের চাপা, নারী-শিশুসহ নিহত ৭। ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১১৬৩। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ অবরোধ করেছেন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। সাধারণত এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা পড়ালেখা করে। সরকার বলছে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো যৌক্তিক মনে করলেও সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ বারবার কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপসহ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। এদিকে শুক্রবার এএফপির এক আলোকচিত্রী জানিয়েছেন, প্যারিসের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ও গাস্তোঁ বাশেলার হাইস্কুলের প্রবেশপথে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনী কাজ করেছে। আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, দেশজুড়ে প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি হাইস্কুলের মধ্যে ৪০০টির মতো প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। মার্সেইয়ের মতো কিছু শহরে বিকল্প হিসেবে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি জানান, এই সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে অন্তত ৬৫ জন শিক্ষক ও কর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৪০ জনই প্রধান শিক্ষক। এছাড়া প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পাশাপাশি শতাধিক হাইস্কুল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মন্ত্রী অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, তাদের সন্তানদের রাস্তায় নামতে নিষেধ করা এখন জরুরি কারণ তারা বিপদের মুখে রয়েছে। বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানা জানিয়েছেন, স্কুল ভাঙচুরের মতো ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার অভিভাবকদের বহন করতে হবে এবং মেরামত খরচ তাদেরই পরিশোধ করতে হবে। আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবির ৩ শিক্ষকসহ ১১ জন স্থায়ী বহিষ্কার।
বিচারমন্ত্রীর তথ্যমতে, আন্দোলনের শুরু থেকে প্রায় ২ হাজার ব্যক্তিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যাদের ৯০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। সরকার এই আন্দোলনের পেছনে কট্টর বামপন্থী দল ‘ফ্রান্স আনবোড’ (এলএফআই)-এর উসকানি থাকার অভিযোগ তুলেছে। তবে এলএফআইয়ের নেতা ম্যানুয়েল বোমপার এই দাবিকে ভিত্তিহীন ও ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এদিকে উত্তেজনা প্রশমনে শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই বিক্ষোভের ঘটনা আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ছয় মাস আগে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০