
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিশ্বের ওপর একটি মাত্র পরাশক্তির আধিপত্য বজায় রাখা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। লাভরভের মতে, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় রাষ্ট্রগুলো নিজেদের সার্বভৌম উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলায় এখন বিশ্বে একটি ন্যায়সংগত বহুমুখী ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হচ্ছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেছেন, একটি একক পরাশক্তির আধিপত্য বিশ্ববাসীর জন্য ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য কোনো ভূখণ্ড অবশিষ্ট থাকবে না। এতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন কার্যত অধরাই থেকে যেতে পারে। শুধু ফিলিস্তিন নয়, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, সুদান, সোমালিয়া এবং দক্ষিণ সুদানের সংকটের বিষয়েও তিনি কথা বলেন। এসব দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রথাগত কূটনীতির বাইরে এসে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে, কিউবার ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী ও কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন লাভরভ।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে নাৎসি জার্মানির পরাজয়ের পর নুরেমবার্গ বিচারের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তির বিষয়টি সামনে আনেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই ঐতিহাসিক বিচারের শিক্ষা আজও অনেকে গ্রহণ করতে পারেনি। লাভরভ অভিযোগ করেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক সরকার বর্তমানে ‘ইউক্রেনীয় নাৎসিবাদ’কে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এছাড়া, বিভিন্ন দেশে রুশ ভাষা ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০