
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি জটিলতা গত জুনে সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে নিরসন হয়। এই রায়ের ফলে হাজার হাজার শিক্ষকের পদোন্নতির পথ প্রশস্ত হলেও, রায় ঘোষণার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এর মূল কপি এখনো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) হাতে পৌঁছায়নি। ফলে ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্য পদে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, আদালতের রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি ছাড়া কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানিয়েছেন, রায়ের কপি পাওয়ার জন্য ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়াটি আদালতের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। কপি হাতে পাওয়া মাত্রই অধিদপ্তর পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
বর্তমানে দেশে মোট ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যার মধ্যে ৩৬ হাজার ২৩৫টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁরা পদমর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আদালতের রায়ের পর শিক্ষকদের মধ্যে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, কপি পেতে বিলম্ব হওয়ায় তা এখন উদ্বেগে রূপ নিয়েছে। শিক্ষকেরা দ্রুততম সময়ে রায়ের কপি সংগ্রহ করে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে জ্যেষ্ঠতার তালিকা বা গ্রেডেশন তৈরিতেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের চাকরিবহির তথ্য যাচাই, পদোন্নতির যোগ্যতা নির্ধারণ ও জ্যেষ্ঠতার ক্রম সাজানো অধিদপ্তরের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কোনো যোগ্য শিক্ষক যাতে বঞ্চিত না হন, সেজন্য নির্ভুল তালিকা প্রণয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে এই তালিকা চূড়ান্ত হলেও রায়ের কপি ছাড়া সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব নয়।
এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে। ৩৬ হাজার ২৩৫ জন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হলে তাঁদের ছেড়ে আসা পদগুলো খালি হবে। বিদ্যমান শূন্য পদ ও পদোন্নতিজনিত নতুন পদ মিলে মোট ৩৮ হাজার ৪৩৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ ফাঁকা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে পদোন্নতি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরপরই বিশাল পরিসরে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চ্যালেঞ্জ ডিপিইর সামনে হাজির হবে।
সব জটিলতা ও শূন্য পদের চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার মূল চাবিকাঠি এখন আদালতের রায়ের মূল কপির ওপর নির্ভর করছে। এছাড়া, বাংলাদেশ হাইটেক পার্কে ৪২টি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যেখানে নবম ও দশম গ্রেডের পদের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। চাকরির আরও তথ্য: গত ২ জুন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি–সংক্রান্ত আইনি জটিলতার ইতি টানেন। চাকরির আরও তথ্য: তবে আদালত থেকে রায় প্রকাশ পেলেও তা এখনো ডিপিইর টেবিলে এসে পৌঁছায়নি। চাকরির আরও তথ্য: ফলে অধিদপ্তরের পদোন্নতির কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: রায় বের হলেও তার সারসংক্ষেপ অধিদপ্তরের টেবিলে না পৌঁছানোয় পদোন্নতির প্রক্রিয়ার বাস্তব কাজ ঝুলে রয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৬ হাজার ২৩৫টি বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে পড়ে আছে। চাকরির আরও তথ্য: আদালতের রায়ের পর শিক্ষকদের মনে দ্রুত পদোন্নতি পাওয়ার যে প্রবল আশা জেগেছিল, রায়ের কপি পেতে বিলম্ব হওয়ায় তা আবারও নতুন উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: ৬ লাখ কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা, সংকট মোকাবিলায় যা করা দরকার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০