
পেশাগত যোগাযোগ বা নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি জেনারেশন জি বা জেন-জি প্রজন্মের ক্যারিয়ারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লিংকডইনের সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে ৭২ শতাংশ জেন-জি পেশাজীবী প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাসের অভাবে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ১৮ হাজারের বেশি পেশাজীবীর ওপর পরিচালিত এই জরিপে উঠে এসেছে, তরুণদের এই দ্বিধাবোধের পেছনে রয়েছে নানা ধরনের মনস্তাত্ত্বিক কারণ।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩৭ শতাংশ তরুণ জানিয়েছেন, নতুন কারও সঙ্গে যোগাযোগ করলে অন্য পক্ষ বিরক্ত হতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তাঁরা পিছিয়ে যান। একই সংখ্যক উত্তরদাতা জানিয়েছেন, অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলার সময় বিচার হওয়ার বা নেতিবাচক মূল্যায়নের ভয় তাঁদের তাড়া করে। এছাড়া ৩৪ শতাংশের ধারণা, যোগাযোগের সময় তাঁদের আচরণ কৃত্রিম বা অপ্রামাণিক মনে হতে পারে। এমনকি ৫৩ শতাংশ তরুণ পেশাজীবী স্বীকার করেছেন যে, পেশাগত নেটওয়ার্কিংয়ের যাত্রা কীভাবে শুরু করতে হয়, তা নিয়ে তাঁরা পুরোপুরি নিশ্চিত নন।
তবে পেশাগত নেটওয়ার্কিংয়ের গুরুত্ব যে অপরিসীম, তা তথ্য-উপাত্তেই স্পষ্ট। লিংকডইনের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ শতাংশ জেন-জি পেশাজীবী সরাসরি অনলাইন পেশাগত কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমেই তাঁদের পরবর্তী ক্যারিয়ার সুযোগ খুঁজে পেয়েছেন। কর্মক্ষেত্রের নতুন প্রজন্ম হিসেবে জেন-জিরা এখন অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছেন। প্রায় ৯০ শতাংশ মার্কেটার মনে করেন, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে তরুণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের প্রভাবিত করা এখন সময়ের দাবি।
তরুণদের কাছে পৌঁছানোর কৌশল হিসেবে বিপণন বা মার্কেটিং খাতেও পরিবর্তন আসছে। জরিপে ৪২ শতাংশ মার্কেটার জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের তৈরি কনটেন্ট তরুণ পেশাজীবীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্রের ৮৬ শতাংশ মার্কেটারের মতে, জেন-জি এবং মিলেনিয়াল ক্রেতারা কোনো ব্র্যান্ডের সরাসরি প্রচারের চেয়ে সহকর্মী বা সমপর্যায়ের মানুষের সুপারিশ এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতকে বেশি গুরুত্ব ও বিশ্বাস দেন।
উপাত্ত বলছে, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে শুধু দৃশ্যমানতা বা সাধারণ প্রচার এখন যথেষ্ট নয়। পেশাগত ক্ষেত্রে তাঁদের যোগাযোগের জড়তা কাটানোর পরিবেশ তৈরি করা যেমন জরুরি, তেমনি বিপণনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের মতামত এবং বিশ্বাসযোগ্যতার সমন্বয় করাও এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে ৩ ধাপে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা এবং চলতি বছরের নিয়োগ প্রক্রিয়া তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। একইসাথে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যেখানে নিজস্ব ক্যাম্পাস ছাড়াই ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভাড়া করা স্থাপনায় পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা তরুণদের ভবিষ্যৎ পেশাগত প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। চাকরির আরও তথ্য: নেটওয়ার্কিং কীভাবে শুরু করবেন, জানেন না ৫৩ শতাংশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০