
প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ বৈধ ও দ্রুত উপায়ে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে এনআরবি ব্যাংক ডিজিটাল অ্যাপ এবং আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রিয়াজ খান জানান, 'এনআরবি ক্লিক' ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনাবাসী বাংলাদেশিরা নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং সুবিধা পাচ্ছেন। বর্তমানে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে এনআরবি ক্লিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যা ব্যাংকের অন্যতম বড় সাফল্য। এই সুবিধা নিচ্ছেন বহু প্রবাসী বাংলাদেশি। আমানত ও বিনিয়োগ সুরক্ষা দিতে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন। দেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিকল্পনা নিয়ে বলুন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনআরবি ব্যাংক শুরু থেকেই নানামুখী কাজ করছে।
প্রবাসীদের আকৃষ্ট করার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হারের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক হিসাব খোলা, ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে ডিপিএস খোলা এবং প্রিমিয়াম রেমিট্যান্স ইনসেনটিভ সেবা প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা এবং আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোর অনুসরণে গ্রাহকের প্রতিটি লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অ্যাপটি ব্যবহার করে প্রবাসীরা বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স দেখা থেকে শুরু করে নিয়মিত হিসাব ও ডিপিএস খোলার সুবিধা পাচ্ছেন।
তারেক রিয়াজ খান আরও জানান, ব্যাংক তার কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিজিটাল রূপান্তরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে পরিবেশবান্ধব প্রকল্প, রপ্তানিমুখী উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী মাঝারি ও বড় শিল্পকারখানায় অর্থায়নে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করে একটি আধুনিক ও গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলাই ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ব্যাংক তার তথ্য নিরাপত্তাকাঠামোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
নিরাপত্তা প্রোটোকলের বিষয়ে তিনি জানান, ডিজিটাল আস্থার ভিত্তি হিসেবে গ্রাহকের তথ্য, আর্থিক সম্পদ ও লেনদেনের নিরাপত্তাকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ব্যাংকটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে আইএসও সনদ অর্জন করেছে। কার্ড ও ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে পেমেন্ট কার্ড ইন্ডাস্ট্রি ডেটা সিকিউরিটি স্ট্যান্ডার্ড (পিসিআই ডিএসএস) অনুসরণ করা হচ্ছে। নিয়মিত সাইবার ঝুঁকি পর্যালোচনা, হালনাগাদ তথ্য-নিরাপত্তা নীতিমালা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আইসিটি নিরাপত্তা নির্দেশনার যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ঝুঁকি মোকাবিলা করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আইটি ডিজাস্টার রিকভারি সক্ষমতাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনার বিষয়ে তারেক রিয়াজ খান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি অংশীদারত্ব গঠন, ক্যাশলেস ব্যাংকিং ত্বরান্বিত করা এবং খুচরা ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় নিয়ে আসাই মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী 'বাংলা কিউআর' প্রচার এবং প্রান্তিক পর্যায়ে ক্যাশলেস সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত রোড শো ও মার্চেন্ট অনবোর্ডিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ ব্যাংকিং খাতের রূপান্তর সম্পর্কে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ওপেন ব্যাংকিং এবং ফিনটেক সহযোগিতা ব্যাংকিং সেবার চেহারা বদলে দেবে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকদের ব্যয়ের ধরন বিশ্লেষণ করে তাদের জন্য বিশেষ আর্থিক পরামর্শ ও অফার দেওয়া সম্ভব হবে। সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশনের কারণে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন।
ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় করার জন্য তিনি কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইপিএস) প্ল্যাটফর্ম চালু করা, আর্থিক লেনদেনে কর বা ভ্যাট ছাড়ের ব্যবস্থা করা এবং গ্রামীণ পর্যায়ে সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট অবকাঠামো নিশ্চিত করা। এছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কিউআর কোড বা পেমেন্ট ডিভাইস স্থাপনে সরকারি নীতি সহায়তা পাওয়া গেলে ক্যাশলেস অর্থনীতিতে রূপান্তর আরও দ্রুত হবে বলে তিনি মনে করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০