
পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে আরও বেশি উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরিবর্তন চাইলে নিজের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’’। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেই থেমে গেলে হবে না।
সভায় প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের বাইরেও কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে। দেশের মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার কাছে আসে না। তাই কেবল নয়টা-পাঁচটা অফিস করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে বাড়তি দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করতে হবে। যারা আজ দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের সেই সুযোগ রয়েছে। সবাই এগিয়ে এলে দেশের মানুষের জন্য সম্মিলিতভাবে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের ‘মাদার ট্রি’ চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া গাছ লাগানোর পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে নিজস্ব লোক পাঠিয়ে তা পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন সরকার প্রধান।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়মিতভাবে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশের জন্য লজ্জাজনক। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি পরিবেশ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি ছাদবাগান ও স্কুলবাগান তৈরির মতো কাজে মানুষকে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন।
প্রধানমন্ত্রী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, এ লক্ষ্য সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের মানুষ দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাবে। যদি অন্য কোনো মন্ত্রণালয় তাদের ওপর অর্পিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগায়, তবে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে বলে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপরে যদি আপনি কিছু না করেন, কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশটা যদি খারাপ হয়ে যায়, ভবিষৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম তো দেশেই থাকবে।’।
পরিবেশ রক্ষায় গৃহীত প্রতিটি পরিকল্পনায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম যুক্ত রাখার ওপরও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন। সভায় আরও জানানো হয়, মানুষের জন্য প্রকৃতির মাঝে বেড়ানোর সুযোগ বা জায়গা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।
উল্লেখ্য যে, উক্ত পর্যালোচনা সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০