
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ের স্বপ্ন গত বছর অধরাই রয়ে গিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। যদিও গত বছর তিনি সাতটি যুদ্ধ থামানোর দাবি তুলে নিজের নাম নোবেল জয়ের তালিকায় তোলার ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো নেতাদের প্রকাশ্যে সমর্থনও পেয়েছিলেন। কিন্তু কমিটির শেষ সিদ্ধান্ত তার পক্ষে যায়নি। ২০২৬ সালের পরিবর্তিত বাস্তবতায় ট্রাম্প এখন প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছেন, যা তার নোবেল জয়ের সম্ভাবনাকে আরও সুদূরপরাহত করেছে। রূপপুরের পথে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান। নারীর কর্মজীবনে বড় অন্তরায় সন্তানের জন্য ডে-কেয়ার সংকট। এশিয়ান গেমস / খর্বশক্তির শ্রীলঙ্কার কাছে বড় হার, ব্রোঞ্জও পেল না বাংলাদেশ। বন্যা ঝুঁকি কমাতে ৪ হিমবাহ হ্রদের পানি কমাবে নেপাল। দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ায় বিশ্বকাপের বাছাই, পূর্ণ শক্তির দল পাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত জোর প্রচারণা চালিয়েও আরাধ্য নোবেলের দেখা পাননি এই বিশ্বনেতা।
অসলোভিত্তিক পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলোভের মতে, পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটি এবার পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক। তাদের প্রধান উদ্বেগ হলো—কাউকে পুরস্কার দেওয়ার পর তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়বেন কি না। গেরলোভ মনে করেন, মাচাদোর নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দেওয়ার ঘটনাটি কমিটির বিবেচনায় বড় প্রভাব ফেলেছে। গত বছরের সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কমিটি এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিতে চায় যারা ট্রাম্পের সম্ভাব্য চাপের বিপরীতে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় রাখতে পারবে। এর কয়েক সপ্তাহ পর ‘গণতান্ত্রিক ভেনেজুয়েলা প্রতিষ্ঠার’ প্রচেষ্টায় ট্রাম্পের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে মাচাদো তার নোবেল পদকটি ট্রাম্পকে উপহার দেন।
শান্তিতে নোবেল জয়ী ফিলিপিনো-আমেরিকান সাংবাদিক মারিয়া রেসা গত বছরের পরিস্থিতি দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। অসলো সফরের সময় রয়টার্সকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ক্ষমতার জোরে কোনো কিছু ন্যায্য হয়ে যায় না এবং নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি, মিত্রদের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ ও ন্যাটো ছাড়ার হুমকির মতো বিষয়গুলো নোবেল কমিটির মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক।
আগামী ৯ অক্টোবর শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ অন্যতম, যিনি গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের সমালোচনা করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তোপের মুখে রয়েছেন। অন্যদিকে, পোপ ফ্রান্সিস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নৈতিক নির্দেশনা ও শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
কমিটি যদি বিতর্ক এড়াতে চায়, তবে সুদানের ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’-এর মতো স্থানীয় কমিউনিটি নেটওয়ার্ক বা শিশুদের সহায়তায় নিয়োজিত সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-কে পুরস্কার দিতে পারে। আবার আইসিসি (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত) বা আইসিজে (আন্তর্জাতিক বিচার আদালত)-কে পুরস্কার দিয়ে কমিটি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করতে পারে, যা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকির মুখে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় প্রতীকী ভূমিকা রাখবে। তবে এসবের বিপরীতে ট্রাম্পের নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও বিজয়ী নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সংস্থাটির সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের প্রভাব থাকবে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০