
জাতীয় নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি আইনি পর্যালোচনায় এসেছে। এ সংক্রান্ত নির্বাচনী বিধিমালা ও আইন সংশোধন করে ডোপ টেস্ট কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল দেন। আদালতে এই রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনী আইন ও বিধিমালার পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রার্থীদের ডোপ টেস্টের আওতায় আনার নির্দেশনা চেয়ে রিটটি দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত জাহান। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। শুনানি শেষে গণমাধ্যমকে এই আইনজীবী জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশার মানুষের জন্য যেভাবে ডোপ টেস্টের নিয়ম রয়েছে, জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও তা থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একজন করদাতা হিসেবে আমি প্রত্যাশা করি যে ব্যক্তি আমাকে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তিনি যেন মাদকমুক্ত এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকেন। সরকারি চাকরির জন্য এই নিয়মটা আছে, পুলিশের জন্য এই নিয়মটা আছে। আমাকে রিপ্রেজেন্ট করছেন একজন মেম্বার অব পার্লামেন্ট (সংসদ সদস্য), আমাকে রিপ্রেজেন্ট করছেন এলাকার চেয়ারম্যান–মেম্বার।
ইসরাত জাহান আরও যুক্তি দেন যে, জনপ্রতিনিধিরা যদি মাদকাসক্ত হন, তবে তাঁরা জনগণের অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হতে পারেন এবং যথাযথ প্রতিনিধিত্ব করতে অক্ষম হবেন। তাঁর মতে, সংবিধান অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তির মানুষ হওয়া জরুরি। বর্তমান নির্বাচনী বিধিমালায় ডোপ টেস্টের বাধ্যবাধকতা না থাকায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়ায়ই এই শর্ত যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের ক্লজে ডোপ টেস্টের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০