
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র পাননি—এমন দুই শতাধিক প্রার্থী রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টা থেকে তারা এই আন্দোলনে নামেন। নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে সকালের দিকে চাকরিপ্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সমবেত হন এবং সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে পৌঁছান।
আন্দোলনকারী প্রার্থীদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় প্রায় ২ হাজারের বেশি প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হলেও অনেকের নাম তালিকায় না থাকায় তারা তীব্র উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। প্রার্থীদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই ভেরিফিকেশন প্রহসনের শিকার হয়ে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। তবুও দাবি আদায়ের আশায় এসেছি। অনেক কষ্ট ও সংগ্রাম করে আমরা এতদূর এসেছি। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৬১ জেলায় বাদ ২ হাজারের বেশি, ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পদক্ষেপ দাবি।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আল মামুন বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তারা নিজেদের অধিকারবঞ্চিত মনে করছেন। অনেক ত্যাগ ও সংগ্রামের পর এই পর্যায়ে এলেও রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে কিনা—এমন প্রশ্ন তুলেছেন তানভীর রহমান নামের আরেক প্রার্থী। তিনি বলেন, তারা এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কোনো বিবাদ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে আসেননি, বরং ন্যায্য অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে নেমেছেন। নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তিনি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের বাদ দেওয়ার যেই কারণগুলো জানিয়েছেন সেই কারণ দেখিয়ে আমাদের বাদ দেওয়ার অধিকার কি সরকার রাখেন।
রাজশাহীর বাগমারা থেকে ১৫ মাসের শিশু সন্তান কোলে নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন খাদিজা বানু। তিনি বলেন, পরিবার ছেড়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় এসেছেন। পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় রাতে কোথায় থাকবেন বা কী করবেন, তা নিশ্চিত না হয়েও রাজপথেই অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। খাদিজা বানু ১৫ মাস বয়সী সন্তানসহ এসেছেন। রাজপথে থাকার প্রস্তুতি নিয়েই এসেছি। দক্ষিণ কোরিয়ায় জিআইএসটি স্কলারশিপ: পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ।
শিক্ষক নিয়োগের এই সংকটে সংহতি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের। তিনি বলেন, এখানে উপস্থিত সবাই শিক্ষিত এবং কোনো ফৌজদারি অপরাধ বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। তাদের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা, কিন্তু বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে। এটি একটি সুস্পষ্ট জুলুম ও অন্যায় দাবি করে তিনি দ্রুত ন্যায়সংগত প্রতিকারের আহ্বান জানান।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার বিষয়টি মানবিক ও ন্যায়সংগতভাবে পুনর্বিবেচনা করা হোক। সরকারের কাছে তারা দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে বলেও তারা জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০