
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত প্রার্থীরা রাজপথে নেমেছেন। দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদানের দাবিতে আজ রোববার সকাল থেকেই তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে কর্মসূচি শুরু করেন। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সমবেত হওয়ার পর বেলা ১১টার দিকে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন।
বিক্ষুব্ধ প্রার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যান। তবে সেখানে গিয়ে তারা শিক্ষামন্ত্রী কিংবা মন্ত্রণালয়ের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার দেখা পাননি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে প্রতিনিধি দলটি সচিবালয় থেকে ফিরে এসে শাহবাগের অবস্থানস্থলে যোগ দেন। বর্তমানে তারা সেখানেই তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভেরিফিকেশন পর্যায়ে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। সেখান থেকে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় নেবে ১৬ জন, বেতন নতুন পে স্কেলে। ফলে তাঁরা শাহবাগে আন্দোলনস্থলে ফিরে এসেছেন।
একদিকে যখন আন্দোলন চলছে, অন্যদিকে বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপত্র প্রদানের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফলাফলের ভিত্তিতে রাজশাহী জেলায় দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিজ্ঞপ্তিতে নতুন করে মোট ২২ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তরা জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ১১০০০ থেকে ২৬৫৯০ টাকা বেতনস্কেলে (গ্রেড-১৩) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সকল শর্তাবলী যথাযথভাবে প্রযোজ্য হবে। এ দফায় ২২ জন প্রার্থীই নিয়োগপত্র পেয়েছেন। চিঠিতে নতুন করে মোট ২২ জনের নাম রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগপত্র প্রদানের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। তবে বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একদিকে নিয়োগপত্র পাওয়ার আনন্দ আর অন্যদিকে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার শঙ্কা—সব মিলিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে এই জটিলতা নিরসন ও যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরতরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০