পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিউল করিম সোহানের (২৩) রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও ফরেনসিক প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময়েও প্রতিবেদন না আসায় এবং মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম হতাশ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নিহতের মা-বাবা। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনা শহরের একটি সংবাদপত্র কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ বিষয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর জেরে গত ২৪ এপ্রিল ওই জমির মাটি কাটা নিয়ে ঝগড়া বাধায় তারা।
পরিবারের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাফিউলের চাচা ইব্রাহিম হোসেন, নজরুল ইসলামসহ ছয়জনের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব চলছিল। গত বছরের ৫ জুন নাফিউল ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসার পর ৯ জুন সকালে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন। ঘটনার প্রায় দুই মাস পর, ৪ আগস্ট নাফিউলের মা নাসিমা আক্তার বাদী হয়ে পাবনা আদালতে ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২৭ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে নাফিউলের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছিল। ৯ জুন সকালে ঘুম থেকে উঠে ছেলের মরদেহ দেখতে পান তার মা-বাবা। গত ৮ জুন রাতের কোনো এক সময় নাফিউলকে তার চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা মিলে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন নাফিউলের মা-বাবার।
সংবাদ সম্মেলনে নাফিউলের মা নাসিমা আক্তার অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছেন। তিনি জানান, পুলিশের সাথে আসামিদের যাতায়াত থাকায় তিনি ভয়ে থানায় যাওয়ার সাহসও পাননি। নাফিউলের বাবা রেজাউল করিমও একই অভিযোগ করে বলেন, তার সন্তান হত্যার বিচার চাওয়াই যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রদান, আসামিদের গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের মাধ্যমে ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, সন্তান হত্যার প্রায় ১৫ মাস আর লাশ উত্তোলনের আট মাস পার হলেও এখনো ফরেনসিক প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে না। নাকি সন্তান হত্যার বিচার চেয়েই ভুল করেছি। আর সেটা দেথে আমি ভয়ে থানায় কখনো যাওয়ার সাহস পেতাম না যে, না জানি কখন কে আমার ওপর হামলা করে। যেহেতু হুমকি দিচ্ছে এই অবস্থায় আমাদের দিন কাটছে।
নিহত শিক্ষার্থীর বাবা রেজাউল করিম আক্ষেপ করে বলেন, “সন্তান কীভাবে মারা গেছে তা আমরা জানি না। সরকারের কাছে আমার দাবি, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যবস্থা করা হোক। প্রকৃত হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” এছাড়া মামলার প্রধান অভিযুক্ত ইব্রাহিম হোসেন পরিবারের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “সোহান কীভাবে মারা গেছে আমরা নিজেরাও জানি না। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন। আইন অনুযায়ী যা হওয়ার তা-ই হবে।” বলছে তোর ছেলেকে মেরেছি, তোকেও শেষ করে দেব।
ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুরুল আলম মাসুদ জানান, ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত পাওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। হুমকির অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” এখন পর্যন্ত মামলার প্রধান অভিযুক্তসহ কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০