
ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তর নিয়ে সম্পাদিত চুক্তিটি নতুন করে পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। বুধবার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বিবিসিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে আখ্যায়িত করার পরপরই লন্ডন এই সিদ্ধান্ত নেয়।
২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্য ও মরিশাস এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের বিনিময়ে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপের যৌথ সামরিক ঘাঁটিটি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা পাওয়ার কথা ছিল ব্রিটেনের। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে এই দ্বীপটি ব্যবহার করত। এই দীর্ঘমেয়াদি ইজারার বিনিময় মূল্য ধরা হয়েছিল ১০১ মিলিয়ন পাউন্ড। গত এপ্রিলে ট্রাম্পের সমর্থন প্রত্যাহারের পর চুক্তিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্ট্রিটিং জানান, এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থন আদায়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করাই এই পর্যালোচনার মূল লক্ষ্য। তবে এই প্রক্রিয়া শেষ হতে কত সময় লাগতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। আপাতত মরিশাসকে কোনো ধরনের অর্থ প্রদানের বিষয়টিও স্থগিত রাখা হয়েছে।
চুক্তিটির প্রকৃত ব্যয় নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। সরকারিভাবে এর সম্ভাব্য খরচ তিন দশমিক চার বিলিয়ন পাউন্ড বলা হলেও, বিরোধী দলগুলোর দাবি অনুযায়ী এটি ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে। অনেক সমালোচক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই হস্তান্তরের ফলে ওই অঞ্চলে চীন প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) মরিশাস থেকে চাগোসকে আলাদা করার প্রক্রিয়াকে আইনবহির্ভূত বলে রায় দেয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সমর্থনের ভিত্তিতে ২০২২ সালে যুক্তরাজ্য ও মরিশাস আলোচনা শুরু করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক এবং রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ চুক্তিটি পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০