
ক্রিকেট বিশ্বে একসময় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় পাওয়া বাংলাদেশের জন্য ছিল অতি সাধারণ ঘটনা। মাঠের লড়াইয়ে জিম্বাবুয়েকে বাংলাদেশ এমনভাবে শাসন করত যে, তাদের একরকম ‘সহজ শিকার’ হিসেবেই ধরা হতো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই চিত্র এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। পরিসংখ্যানের সেই পুরোনো হিসাব-নিকাশ পেছনে ফেলে জিম্বাবুয়ে এখন টাইগারদের জন্য বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ ডিএমপির। জাতীয় স্বার্থ-সার্বভৌমত্ব-আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী। একসময় ওয়ানডে সংস্করণে জিম্বাবুয়ে মানেই যেন ছিল বাংলাদেশের নিশ্চিত জয়ের সমীকরণ। এই জয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গত দশকের বেশিরভাগ সময় ধরে বাংলাদেশের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে থাকা এই মুখোমুখি লড়াইয়ে পরিস্থিতি এখন বেশ বদলে গেছে। ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে জয়ের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ এখনও অনেক এগিয়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের থামানোর পথ ঠিকই খুঁজে নিচ্ছে জিম্বাবুয়ে। সেই ফলাফলই বার্তা দিয়েছিল যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবস্থান নিচের দিকে হলেও ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের দুর্বলতাগুলো কাজে লাগাতে প্রস্তুত জিম্বাবুয়ে।
সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এই পরাজয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, গত দশকের বেশিরভাগ সময় ধরে বাংলাদেশ যে আধিপত্য বজায় রেখেছিল, তা এখন আর নেই। এমনকি নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও জিম্বাবুয়ে এখন বাংলাদেশ দলকে চাপে ফেলার সক্ষমতা অর্জন করেছে। যা থাকবে ৩০ লাখ বর্গফুটের নতুন সচিবালয়ে, প্রস্তাব উঠছে মন্ত্রিসভায়।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ এখনও এগিয়ে আছে। মোট ৮৪টি মুখোমুখি লড়াইয়ের মধ্যে বাংলাদেশের জয় ৫২টিতে, আর জিম্বাবুয়ের জয় ৩২টিতে। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বলছে। ২০২২ সালের সিরিজ থেকে শুরু করে সর্বশেষ শনিবারের আবুধাবি ম্যাচ পর্যন্ত দুই দলের শেষ সাতটি ওয়ানডের মধ্যে পাঁচটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। দুই দলের সর্বশেষ মুখোমুখি হওয়ার আগের ইতিহাস বলছে, ৮৪ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ৫২টিতে, আর জিম্বাবুয়ের জয় ৩২টিতে। সেখান থেকেই মূলত চিত্রপট বদলাতে শুরু করে।
২০২২ সালে হারারেতে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে জিম্বাবুয়ে মূলত বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শক্ত অবস্থান ভেঙে দেয়। সেবার সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ৩০৩ রান করেও জিততে পারেনি। দ্বিতীয় ম্যাচেও ২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিম্বাবুয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয়। এরপর ২০২৬ সালে নিজেদের মাটিতেও জিম্বাবুয়ে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশকে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয়। ২০২৬ সালে নিজেদের মাটিতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় জিম্বাবুয়ে। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জিতলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে জিম্বাবুয়ে নিজেদের নতুন শক্তির জানান দেয়।
শনিবারের ম্যাচেও জিম্বাবুয়ের সেই ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাসের ছাপ দেখা গেছে।
আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বোলার তাসকিন আহমেদের তোপে পড়ে শুরুতে মাত্র ২৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু সেই বিপর্যয় থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। চতুর্থ উইকেটে এরভিন ও টেলর ১৫০ রানের বিশাল জুটি গড়েন। এরভিন ১০৬ বলে ৯৩ এবং টেলর ১০১ বলে ৮১ রান করলে জিম্বাবুয়ে ৮ উইকেটে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায়। আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বল হাতে দারুণ সূচনা করেছিলেন তাসকিন আহমেদ।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ দল কখনোই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মতো ছন্দ খুঁজে পায়নি। দলের পক্ষে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম সর্বোচ্চ ৪৬ রান করলেও বাকিরা সুবিধা করতে পারেননি। ব্র্যাড ইভান্সের তোপে পড়ে মাত্র ১৭২ রানেই বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যায়।
একসময় ৫০ ওভারের ম্যাচগুলো ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তির জায়গা। ২০১৪ ও ২০১৫ সালের টানা সিরিজ জয় ছাড়াও ২০১৮ এবং ২০২০ সালে তারা জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। এমনকি ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েও তিনটি ওয়ানডেই জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা এখন কেবলই অতীত। একসময় ৫০ ওভারের যে খেলাটি বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্ত জায়গা ছিল, গত পাঁচ বছরে সেটিই যেন তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জিম্বাবুয়ে যে কেবল নিজেদের মাটিতে সিরিজ জিতছে তা নয়, বরং আরব আমিরাতের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এই ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে আরও খেলছে আফগানিস্তান। জুলাইয়ের সেই সিরিজে প্রথম দুই ওয়ানডেতে যথাক্রমে ২৫ ও ১৩ রানে বাংলাদেশকে হারিয়ে দেয় তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০