
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসন শুরুর পর ২ বছর ১০ মাস ১৬ দিন পার হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও প্রতিদিনের হামলায় হতাহত হচ্ছেন নিরীহ ফিলিস্তিনিরা। এই পরিস্থিতিতে মৃতদের দাফনের জায়গা খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসরায়েল নির্ধারিত সামরিক অঞ্চল ‘ইয়েলো লাইনের’ কাছে গুলিতে মোহাম্মদ (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। তার ছেলে ওমর আল-সাওহি (২০) জানান, গত ১০ জুন জেইতুন এলাকায় চা-কফি বিক্রির সময় ঘাড়ের ওপর গুলি লেগে তার বাবা মারা যান। এরপর থেকে বাবাকে দাফনের জন্য তিনি হন্যে হয়ে জায়গা খুঁজছেন। জেইতুন কবরস্থানে গিয়ে তিনি দেখেন, জায়গা সংকুলান না হওয়ায় প্রতিটি কবর একে অপরের গা ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে।
ওমর জানান, যুদ্ধের আগে যেভাবে কবর প্রস্তুত করা হতো, এখন তা সম্ভব নয়। বর্তমানে একটি কবর তৈরিতে ১৬৭ ডলার বা প্রায় ২০ হাজার ৫৪১ টাকা খরচ হয়, যা তার পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে। শেষ পর্যন্ত দাদার কবরেই বাবাকে দাফন করতে হয়েছে।
গাজার ধর্মীয় ও দাতব্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস করেছে। এছাড়া কবরস্থানে প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অনেক কবরস্থান এখন বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
কবর ফলকের উপকরণের অভাবে একটি কবর দিতে ২৩৫ থেকে ৩৩৫ ডলার পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। অর্থ জোগাড় না হওয়া পর্যন্ত অনেকে ধসে পড়া ভবনের ইট, কাদামাটি বা ঢেউটিন দিয়ে অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করছেন। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইকরামি আল-মাদাল্লাল জানান, যুদ্ধ শুরুর সময় থেকেই ৬০টি কবরস্থানে জায়গার সংকট ছিল। এখন নতুন কবরস্থান তৈরির জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে।
খান ইউনিস শহরের কবরস্থানে ১৯ বছর ধরে কাজ করা তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধ শুরুর সময় সেখানে ৬০টি কবর ছিল, যা এখন ৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের তীব্রতায় প্রতিদিন তাকে ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন ভয়াবহ রক্তপাত আগে দেখিনি। তারা আমাদের মাথার ওপরের ছাদ ধ্বংস করে, আর সেই ধ্বংসস্তূপ দিয়েই আমরা কবর তৈরি করি।’ প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল শনিবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেভাবে ট্রমা কাটিয়ে উঠছেন গাজার নারীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ১০ জুন গাজা সিটির জেইতুন এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ছোট একটি রাস্তার পাশের দোকানে চা-কফি বিক্রি করছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় একটি বুলেট এসে তার ঘাড়ে আঘাত করলে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনেকগুলোতেই গাজায় ইসরায়েলের চলমান গণহত্যায় নিহতদের দাফন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জায়গার সংকট এবং যুদ্ধের কারণে তৈরি কঠিন পরিস্থিতিতে অনেক কবরেই শুধু একটি পাথর ও তার সঙ্গে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা কাগজ লাগিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত, গাজায় নিহত ৮। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আল জাজিরাকে ওমর বলেন, ‘আমি কবরস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অসংখ্য কবর দেখেছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০