খুলনা নগরীতে হঠাৎ তীব্র গ্যাস সংকটে সিএনজি ও এলপিজিচালিত যানবাহনের চালক ও মালিকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। সোমবার গভীর রাত থেকেই মূলত এই সংকটের শুরু, যা মঙ্গলবার সারাদিন স্থায়ী ছিল।
নগরীর মুজগুন্নী এলাকার ডিএম অটো ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস সাপ্লাই স্টেশনের সামনে গাড়ির সারি প্রায় এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক চালক গ্যাস না পেয়ে ফিরে গেছেন। এতে অনেক চালকের পুরো দিনের আয় নষ্ট হয়েছে, আবার কেউ কেউ বাড়তি খরচ করে বিকল্প উপায়ে গাড়ি সরাতে বাধ্য হয়েছেন।
দুপুর ১২টা থেকে মুজগুন্নী স্টেশনে লাইনে অপেক্ষারত সিএনজি চালক ইদ্রিস জানান, বিকেল পর্যন্ত গ্যাস না পেয়ে তিনি গাড়ি ভ্যানে করে গন্তব্যে পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন। এ বাবদ তাকে ২০০ টাকা খরচ করতে হয়েছে। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে রাত ৯-১০টা পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে তিনি সংসার চালান, কিন্তু জ্বালানি না থাকায় দিনের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি দিশেহারা।
আরেক চালক সিদ্দিকুর রহমান জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়টি মেনে নেওয়ার মানসিকতা প্রকাশ করলেও, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে হয়রানি না করার দাবি জানিয়েছেন। শুধুমাত্র সিএনজি নয়, এলপিজি সংকটেও পরিবহন মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। আরিফ আহমেদ নামের এক গাড়ির মালিক জানান, সোমবার ডুমুরিয়া যাওয়ার পথে জিরো পয়েন্টের মারিয়া পেট্রোল পাম্পে গ্যাস পাননি। বাধ্য হয়ে অকটেন দিয়ে গাড়ি চালাতে হয়েছে তাকে।
সোনাডাঙ্গা, গল্লামারী, খালাসির মোড় এবং ময়ূরী আবাসিক এলাকার বিভিন্ন এলপিজি স্টেশনে একই চিত্র দেখা গেছে। গাড়ির মালিক আব্দুল ওয়াদুদ ও রিয়াজ শাওন জানান, তারা একাধিক স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস পাননি।
মেট্রোপলিটন ফিলিং স্টেশনের মালিক এডভোকেট মাসুদ হোসেন রনি জানান, গত কয়েক দিন ধরে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিতে পারছে না। সাধারণত ৪-৫ হাজার লিটারের জন্য পে-অর্ডার করা হলেও সরবরাহ ঘাটতির কারণে তা পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন, সামুদ্রিক ঝড়ের কারণে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তাকে জানানো হয়েছে।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের এমন চাপের কারণে ব্যস্ত সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চালক ও মালিকরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০