
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং নির্মূল ও অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে জেলা পুলিশ। সর্বশেষ গত রোববার সন্ধ্যা সাতটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে পরিচালিত অভিযানে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সমন্বিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭০। ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ।
এর আগে বুধবার ও শনিবার রাতে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে ৮৭৮ জনকে আটক করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫৯৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয় এবং অবশিষ্ট ২৮১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে গত পাঁচ দিনের তিন দফা অভিযানে পুলিশ এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করল। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারা অপরাধ কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডাস্থল এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এই ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং অপরাধের প্রবণতা কমছে বলে তিনি দাবি করেন। উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পুলিশের এমন অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে একদিকে কুমিল্লাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে অপরাধপ্রবণতাও কমে আসছে।
রোববার রাতের অভিযানে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪৮ জনকে আটক করেছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের অতীতের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং তাদের সাথে কোনো গ্যাংয়ের যোগসূত্র আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
এর আগের অভিযানে আটক ২৫৪ জনের মধ্যে ১৪৬ জন কিশোরকে মুচলেকায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। বাকি ১০৮ জনের বিরুদ্ধে মাদক কারবার, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ড, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
শনিবারের অভিযানে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ৩৭ জনকে আটক করেছিল, যাদের মধ্যে পাঁচজন নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর সক্রিয় সদস্য। এদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী আনিসুর রহমান ওরফে আনিককে রতন গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এছাড়া পূর্বে সংঘটিত অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ছক সাত দিন আগে প্রস্তুত এবং যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে টিকটকের ব্যবহারের তথ্যও উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে। অপ্রতিমকে হত্যার ছক ৭ দিন আগে, টিকটকে যোগাযোগ।
কিশোর গ্যাং দমনে জেলাব্যাপী পুলিশের এই কঠোর অবস্থান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের পর আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০