
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত বাটার শোরুমটি এখন সাশ্রয়ী মূল্যে জুতা কেনার জন্য সাধারণ মানুষের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। বিএসইসি ভবন ও মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে অবস্থিত এই আউটলেটটিতে সারা বছর বিভিন্ন মডেলের জুতার ওপর ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হয়। শোরুমটিতে চামড়ার জুতা, ফরমাল শু, স্কুল জুতা, স্পঞ্জ স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। বছরে এখানে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ জোড়া পর্যন্ত জুতা বিক্রি হয়ে থাকে। জুতা কিনে ফেরার পথে শিহাব বলেন, ‘এখানে এসে আমার খুবই উপকার হলো। বিক্রয়কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বিভিন্ন ধরনের জুতার প্রকৃত মূল্যের ওপরে ৫০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় রয়েছে। প্রায় ৬০ শতাংশ ছাড়ে কিনতে পেরেছি। এটির মূল দাম ছিল ১ হাজার ৯৯৯ টাকা। কাজ শেষে ফেরার পথে এই শোরুমে ঢুঁ মেরেছেন। শোরুমের কর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষই এখানে আসেন। আবার কৃত্রিম চামড়ার তৈরি কেডস, জুতাও রয়েছে এখানে। আর কেডস ও শু বিক্রি হয় ১০০০-১২০০ টাকায়। শোরুমজুড়ে একটি উল্লেখযোগ্য জায়গা দখল করে আছে ছেলেমেয়েদের স্কুল জুতা। এসব জুতা ছাড়কৃত মূল্যে ৩০০-৪০০ টাকায় বিক্রি হয়, যার প্রকৃত দাম ৮৯৯-৯৯৯ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন কারখানার কর্মীদের নিরাপত্তা জুতা বা সেইফটি শু বিক্রি হয় ৯০০ টাকা দামে, যার প্রকৃত মূল্য ২ হাজার ২০০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের এই বিশেষ শোরুমটিতে গত শনিবার এসেছিলেন মিরপুর-১৪ নম্বর থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিহাব উদ্দিন। তিনি জানান, টিউশনির টাকায় চলা একজন শিক্ষার্থীর জন্য কম খরচে মানসম্মত জুতা পাওয়া খুব কঠিন। ৬০০ টাকায় এক জোড়া জুতা কিনতে পেরে তিনি বেশ সন্তুষ্ট। তার ভাষ্যমতে, একই জুতা অন্য শোরুমে কিনতে হলে দেড় হাজার টাকার মতো লাগত। রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকা থেকে গত শনিবার বিকেলে বাসে করে কারওয়ান বাজার আসেন শিহাব উদ্দিন। শিহাব বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। অবশ্য জুতা কিনতে শিহাবের লম্বা পথ আসার কষ্ট একেবারে বৃথা যায়নি। গত শনিবার বন্ধের দিনে প্রয়োজনীয় কাজে কারওয়ান বাজার এলাকায় এসেছিলেন।
কর্মকর্তা ও চাকরিজীবীদের কাছেও জায়গাটি বেশ পরিচিত। সাভার থেকে আসা হাফিজুর রহমান বলেন, চাকরির শুরুর দিকে যখন বেতন কম ছিল, তখন থেকে তিনি এখান থেকে জুতা কেনেন। নন-ব্র্যান্ড জুতার চেয়ে বাটার এই আউটলেটের জুতা অনেক বেশি টেকসই। তবে এখানে সব সময় সব সাইজের জুতা পাওয়া যায় না। পেশায় পাঁচতারকা হোটেলের কর্মী জাকির হোসেন জানিয়েছেন, তিনি এ পর্যন্ত চারবার এই শোরুম থেকে জুতা কিনেছেন এবং নিজে ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও এখান থেকে কেনাকাটা করেছেন। শোরুমটিতে জুতার দরদামের খোঁজখবর নেওয়ার সময় কথা হয় হাফিজুর রহমানের সঙ্গে। তিনি ৮০০ টাকায় একটি শু কিনেছেন।
শোরুমে বিভিন্ন জুতার দামের ভিন্নতা রয়েছে।
সাধারণ স্যান্ডেল থেকে শুরু করে ভালো মানের চামড়ার জুতার দাম ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৭ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
তবে অধিকাংশ জুতা ২৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে কেনা সম্ভব। এছাড়া স্কুল জুতা ৩০০-৪০০ টাকা, সেইফটি শু ৯০০ টাকা, নর্থস্টার স্নিকার ৭০০ টাকা এবং স্পঞ্জ স্যান্ডেল মাত্র ৪৫ টাকায় পাওয়া যায়। তবে সবসময় কেনাকাটা করার আগে মান নিয়ে অনেকে দ্বিধায় থাকেন। সানজিদা আক্তার নামে একজন ক্রেতা জানান, কম দামে জুতা পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে মান কিছুটা কমে গেছে বলে তার মনে হয়েছে। টাকা খরচ করে কিনলে ভালো হবে কি না মনে এই সন্দেহ থাকায় শেষমেষ জুতা না কিনেই ফিরছিলাম।’।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাটার কারখানায় মান যাচাই বা কোয়ালিটি কন্ট্রোল প্রক্রিয়ায় যেসব জুতা উত্তীর্ণ হতে পারে না, সেগুলোর মধ্য থেকে ভালো মানের জুতাগুলো এই আউটলেটে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। শোরুমের এক কর্মী জানান, সাধারণ দৃষ্টিতে এই জুতাগুলোতে কোনো ত্রুটি ধরা পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি থাকলে সেগুলো বিক্রির জন্য তোলা হয় না। ওই কর্মী আরও বলেন, ‘আপনি সাধারণ চোখে জুতা তৈরির এই ভুল হয়তো ধরতে পারবেন না।
রাজধানীতে বাটার এ ধরনের বিশেষ ছাড়ে জুতা বিক্রির শোরুম কেবল একটিই রয়েছে। তবে টঙ্গীতে বাটার কারখানার সামনে একই ধরনের আরেকটি বিক্রয়কেন্দ্র চালু আছে। কারওয়ান বাজারের এই শোরুমটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং প্রতি মঙ্গলবার এটি বন্ধ রাখা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০