
ওয়ানডে ক্রিকেটে ৩০০টিরও বেশি ইনিংসে ৫৫টি সেঞ্চুরি ও ৮০টি ফিফটির মালিক বিরাট কোহলি। স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটপ্রেমীদের ধারণা ছিল, তাঁর সেরা ইনিংসগুলো হয়তো কোনো বড় সেঞ্চুরির ভিড় থেকেই আসবে। কিন্তু নিজের ৩৮তম জন্মদিনে স্টার স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপচারিতায় কোহলি সবাইকে চমকে দিয়ে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বিবেচনায় ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসগুলোর তালিকায় সেঞ্চুরি তো দূরের কথা, কোনো ফিফটির ইনিংসও স্থান পায়নি। ওয়ানডেতে ৩০৬ ইনিংসে একজন মানুষের শুধু সেঞ্চুরিই ৫৫টি। এমন কাউকে এই সংস্করণে নিজের সেরা ইনিংস বেছে নিতে বলা হলে নিশ্চয়ই সেঞ্চুরিগুলোর ভেতর থেকে একটি উঠে আসবে। কিন্তু মানুষটি যদি হন বিরাট কোহলি তাহলে এই ভাবনাটা ভুল। এ উপলক্ষে স্টার স্পোর্টসের এক্স হ্যান্ডলে আজ সকালে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। কোহলির জন্মদিনে দেখে নিন তাঁর বিরল ১০ কীর্তি।
কোহলি তাঁর সেরা ইনিংস বাছতে গিয়ে বেছে নিয়েছেন দুটি বিশেষ ম্যাচ, যেগুলোতে ভারত শিরোপা জিতেছিল।
প্রথম প্রশ্ন ছিল ২০১২ সালের হোবার্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৩ নাকি ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৫ রানের ইনিংসটি সেরা? ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।
কোহলি নির্দ্বিধায় এগিয়ে রাখেন ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালের ৩৫ রানের ইনিংসটিকে। এরপর ২০২৩ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর ৮৫ রানের ইনিংস বা ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২২ ও ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৬০ রানের বিধ্বংসী ইনিংসগুলোকেও তিনি বিশ্বকাপের সেই ৩৫ রানের পেছনে ঠেলে দিয়েছেন। তবে সেই উত্তরগুলোয় কারও কারও বিস্ময়ও জাগতে পারে। কোহলি এরপর ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৫১ রান তাড়া করতে নেমে তাঁর ১২২ ও পরের বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৬০ রানের চেয়েও এগিয়ে রাখেন তাঁর সেই ৩৫ রানের ইনিংসকে।
তবে কোহলির চূড়ান্ত পছন্দে ৩৫ রানের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দেয় ২০১৩ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ৪৩ রানের ইনিংসটি। বৃষ্টিবিঘ্নিত সেই ফাইনালটি নেমে এসেছিল ২০ ওভারের ম্যাচে। আগে ব্যাটিং করতে নেমে ভারত ৬৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুঁকছিল। সেই বিপর্যয় থেকে দলকে উদ্ধার করতে রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে দারুণ এক জুটি গড়েন কোহলি। ৩৪ বলে ৪৩ রানের মূল্যবান সেই ইনিংসটি খেলার পর ৫ রানে ম্যাচ জিতে শিরোপা ঘরে তোলে ভারত। হোবার্টে সে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ৩২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৪০ ওভারের মধ্যে জেতে ভারত। দুই বছর আগের সেই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৯ তাড়া করতে নেমে ভারত ৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল।
দলীয় জয়কে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে সবসময় এগিয়ে রাখা কোহলির কাছে তাই সেই ৪৩ রানই তাঁর ওয়ানডে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ইনিংস। এই তালিকার লড়াইয়ে হেরে যাওয়া ম্যাচগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১২ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর ১৮৩ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস, ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৩৮ এবং একই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা ১০৭ রানের ইনিংসটিও। গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৭৪ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলা কোহলি জন্মদিনের এই আলাপচারিতায় নিজের মানসিকতারই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। সে ভিডিওতে টিভি চ্যানেলটির পক্ষ থেকে কোহলির কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাঁর নিজের বিচারে সেরা ওয়ানডে ইনিংস কোনটি। গতকাল রাতেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের প্রথম ওয়ানডে জয়ে ৭৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলা কোহলি বেশ আগ্রহ নিয়েই প্রশ্নের উত্তর দেন। দলীয় অর্জনকে সব সময় এগিয়ে রাখা কোহলি সম্ভবত বিশ্বকাপ জয়ের কারণেই ওই ইনিংসটাকে এগিয়ে রাখলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০