
চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানির ঘোষণা দিয়ে কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির একটি বড় চক্র শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং কাস্টমসের যৌথ অভিযানে মোট আটটি ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) এনবিআর এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।
অভিযুক্ত আমদানিকারক ও তাদের ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন ২০২৩-এর ৩৩ ও ১৭১ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাটি জানিয়েছে, ডিজিটাল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে এসব জালিয়াতি ধরা সম্ভব হয়েছে।
জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় রয়েছে টুথপিকের চালানে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিনের চালানে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা। এছাড়াও গাড়ির যন্ত্রাংশ, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার ও নাট-বল্টুর ঘোষণায় বড় ধরনের জালিয়াতি পাওয়া গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি চালানে সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণও উল্লেখ করা হয়েছে। চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১২০৩০৬৫। চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১০৯৮৭৬৬। চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১২১৬৭৩০। এ সময় বিল অব লেডিংয়ে উল্লেখ করা মূল সিল ভেঙে নতুন সিল লাগানো হয়। এ ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের ফল বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
তদন্ত অনুযায়ী, ঢাকার নিউ মার্কেটের ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিং চীন থেকে ১১ হাজার ৯৫৬ কেজি পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন আমদানির ঘোষণা দিয়েছিল। তবে কায়িক পরীক্ষায় মেশিনের বদলে স্টেজ লাইট, কসমেটিকস পণ্য, এলইডি লাইট এবং সানগ্লাসের মতো বিপুল পরিমাণ অন্যান্য পণ্য পাওয়া যায়। এছাড়া ঘোষিত ওজনের চেয়ে ১ হাজার ৮১৭ কেজি বাড়তি পণ্য ওই চালানে পাওয়া গেছে, যা থেকে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় পেপার পাওয়া যায় ৩ হাজার ১৬০ কেজি। কিন্তু কন্টেইনারে ঘোষিত পণ্য পাওয়া যায় প্রায় ৩ দশমিক ৮ টন।
পুরান ঢাকার চকবাজারের কাফ কর্পোরেশন প্রায় সাড়ে ২২ টন টুথপিক আমদানির ঘোষণা দিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম করেছে। বাস্তবে সেখানে মাত্র ১ হাজার ৬২০ কেজি টুথপিক পাওয়া গেছে। কন্টেইনারের বাকি অংশে ছিল বিএসটিআই কর্তৃক নিষিদ্ধ গোরি বিউটি ক্রিম, যৌন উত্তেজক ডিলে স্প্রে ও অন্যান্য প্রসাধনী। এই চালানে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। বাকি পণ্যের জায়গায় পাওয়া যায় গোরি বিউটি ক্রিম, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, অ্যান্টি-এজিং জেল, হেয়ার রিমুভার স্প্রে, সানগ্লাস এবং যৌন উত্তেজক হিসেবে বাজারজাত করা ডিলে স্প্রে।
গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রেও একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। ঢাকার এইচ আর এন্টারপ্রাইজ থাইল্যান্ড থেকে ১৬ হাজার ৪০ কেজি ইঞ্জিন রবার বুশ আমদানির কথা বললেও, পরীক্ষায় সেখানে ইঞ্জিন মাউন্টিং ও স্টিয়ারিংয়ের যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্স হিট ট্রান্সফার পেপারের বদলে ২১ হাজার ৪৬৭ কেজি পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার এনে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ফাঁকির চেষ্টা করেছে। কাস্টমসের পরীক্ষায় ঘোষিত পণ্যের মধ্যে রবার বুশ পাওয়া যায় ৬ হাজার ৬২৫ কেজি। অন্যদিকে, নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্স চীন থেকে ২৩ হাজার ৬১৮ কেজি হিট ট্রান্সফার পেপার আমদানির ঘোষণা দেয়।
বংশালের নিউ রনি এন্টারপ্রাইজ ও ওয়ারীর মোহাম্মাদীয়া ট্রেড নাট-বল্টু ও বিয়ারিং আমদানিতেও জালিয়াতি করেছে। মোহাম্মাদীয়া ট্রেড ২২ টন স্টেইনলেস স্টিল সার্কেলের ঘোষণা দিয়ে মূলত ২২ হাজার ১১৩ কেজি নাট-বল্টু ও স্ক্রু এনে ৩২ লাখ টাকা ফাঁকির চেষ্টা চালায়। নিউ রনি এন্টারপ্রাইজ ১৭ হাজার ৫৯২ কেজি নাট-বল্টু, রোলিং বিয়ারিং ও চেয়ারের সিলিন্ডার এনে প্রায় ৪২ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করেছে। নিউ রনি এন্টারপ্রাইজের চালানে পাওয়া গেছে ১৭ হাজার ৫৯২ কেজি নাট-বল্টু, ২ হাজার ৭৮৭ কেজি ভারী রোলিং বিয়ারিং এবং ২ হাজার ৩৩৬ কেজি রিভলভিং চেয়ারের গ্যাস লিফট সিলিন্ডার।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে কাফ কর্পোরেশনের আরেকটি চালানে। কাস্টমসের লক করা কন্টেইনারের সিল পরিবর্তন ও নথিপত্রে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করার মতো গুরুতর অপরাধের তথ্য পেয়েছে এনবিআর। ১৯ সেপ্টেম্বর কায়িক পরীক্ষার আগেই কন্টেইনারটি অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এনবিআর জানায়, ঘটনার পরপরই কন্টেইনারটি জব্দ করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় রাজস্ব সুরক্ষিত রাখতে এবং দেশীয় শিল্প রক্ষায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই আমদানিকারকের আরেকটি চালানে কাস্টমসের পূর্বানুমতি ছাড়া এইচএস কোড পরিবর্তনের আবেদন করার চেষ্টার অভিযোগও করেছে এনবিআর। Do Not Sell or Share My Personal Information। We won't sell or share your personal information to inform the ads you see। You may still see interest-based ads if your information is sold or shared by other companies or was sold or shared previously।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০