
উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে ইসরাইলের মুখোমুখি হওয়ার আগে কোনো ইসরাইলি খেলোয়াড়ের সঙ্গে করমর্দন না করার সিদ্ধান্ত নেন আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা। রোববার রাতে হাঙ্গেরির দেব্রেসেনের নাগিয়ারদেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে। ম্যাচটি পরিচালনার সময় আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক দারা ও’শিয়া রেফারিদের সঙ্গে হাত মেলালেও ইসরাইলের অধিনায়ক মানোর সলোমনের সঙ্গে করমর্দন করেননি এবং উভয় দলের মধ্যে প্রচলিত পেন্যান্ট বিনিময়ও হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলেই জয় পায় আয়ারল্যান্ড। এই ম্যাচে আয়ারল্যান্ড একদিকে মাঠে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে, অন্যদিকে ম্যাচের আগে হাত না মেলানো, কালো আর্মব্যান্ড পরা এবং ইসরাইলের জাতীয় সংগীতের সময় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকার মতো প্রতীকী পদক্ষেপ নিয়েছে। মাঠে অল্পসংখ্যক ইসরাইলি সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) আগেই উয়েফাকে তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল, যা উয়েফা কর্তৃক অনুমোদিত হয়। সংঘাতে প্রাণ হারানো সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন। এছাড়া ইসরাইলের জাতীয় সংগীত চলার সময় তারা মাথা নিচু করে নীরবতা পালন করেন। এফএআই-এর ভাষ্যমতে, এসব পদক্ষেপ সংঘাতের শিকার মানুষদের প্রতি সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।
ম্যাচটি নিয়ে মাঠের বাইরের বিতর্ক ছিল বেশ জোরালো। খেলা বয়কটের দাবি জানিয়ে ১৬০ জনেরও বেশি আইরিশ ক্রীড়াবিদ একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা থেকে নিরপরাধ মানুষ হত্যার প্রতিবাদে এই দুই ম্যাচের সিরিজ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। তার সিদ্ধান্তের পর দলের খেলোয়াড়রা ম্যাচ খেলা নিয়ে নিজেদের মধ্যে ভোটাভুটি করেন। এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কাউরেল জানান, খেলোয়াড়দের ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ’ অংশ ম্যাচটি খেলার পক্ষে রায় দিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিরপরাধ মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে নিজের বিশ্বাসের কারণে ইসরাইলের বিপক্ষে খেলায় অংশ নেওয়া তার পক্ষে সঠিক হবে না। তবে কতজন পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণে দলের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন ও অনুশীলন পিছিয়ে যায়।
ম্যাচটি প্রায় দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে আয়ারল্যান্ডের কোনো সমর্থকের জন্য টিকিট বরাদ্দ ছিল না এবং ইসরাইলি সমর্থকদের সংখ্যাও ছিল সীমিত। মাঠে আয়ারল্যান্ডের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট; প্রথমার্ধেই ট্রয় প্যারট, অ্যাডাম আইডাহ ও জ্যাক ময়লানের গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে ইসরাইল গোল শোধের সুযোগ তৈরি করলেও আইরিশ গোলরক্ষক কাওইমহিন কেলেহার তাদের সব আক্রমণ প্রতিহত করেন।
ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার জন্য এফএআই উয়েফার কাছে আবেদন করলেও সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। দলের কোচ হেইমির হালগ্রিমসনও এই ম্যাচ ঘিরে সৃষ্ট অস্বস্তির কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন। তবে বিতর্কের মধ্যেই জাতীয় দলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে আয়ারল্যান্ডের বৃহত্তর জনপরিসরে আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে।
আগামী ৪ অক্টোবর সার্বিয়ার বাক্কা তোপোলায় দুই দলের মধ্যকার পরবর্তী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেটিকে আয়ারল্যান্ডের ‘হোম’ ম্যাচ হিসেবে গণ্য করা হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে তা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ম্যাচকে ঘিরেও নতুন করে বয়কট ও প্রতিবাদের দাবির সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
সূত্র: স্কাই নিউজ, এবিসি নিউজ, দ্য আইরিশ টাইমস ও এপি নিউজ
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০