
ইরানকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে সর্বোচ্চ চাপে রাখার পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধে সহায়তার মাধ্যমে ন্যাটোর সক্ষমতা পরীক্ষার চেষ্টা করছে। তবে তার ভাষ্যমতে, এ ক্ষেত্রে ন্যাটোর প্রতিক্রিয়ার চেয়ে মার্কিন অর্থের অপচয় নিয়েই তিনি বেশি ভাবিত। একই সঙ্গে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, পুতিন চলমান সংঘাত থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি। একইসঙ্গে ইরান যুদ্ধে সহায়তা চেয়ে ন্যাটোকে পরীক্ষা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রয়োজন ছিল না, তবে ন্যাটো কীভাবে সাড়া দেয়, তা দেখতে চেয়েছিলেন তিনি।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্প বেশ কিছু বিতর্কিত দাবি করেছেন। তার মতে, দেশটির নৌবাহিনী কার্যত অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের যুদ্ধবিমানগুলো রানওয়েতে অলস পড়ে আছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, ইরানের নেতৃত্বের প্রথম ও দ্বিতীয় স্তর বিলুপ্ত হওয়ার পথে এবং তৃতীয় স্তরের নেতৃত্বও প্রায় অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে। তবে এসব দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। আল জাজিরা, রয়টার্স ও সিএনএনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে বৈঠকটি হয়েছে বলে দেশটির আর্মি রেডিও জানিয়েছে। সিএনএন জানিয়েছে, এর আগে ট্রাম্পও ইসরায়েলের রাজনীতিতে জড়াতে চান না বলে মন্তব্য করেছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরায়েলে এক অঘোষিত সফর করেছেন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তবে এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু গোপন রাখা হয়েছে। হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাভুক্ত অঞ্চলে মার্কিন সেনাসদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের অংশ হিসেবেই এই সফর করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু অংশ এই কমান্ডের আওতাভুক্ত। ইউএসএ টুডে চিঠিটির বিষয়বস্তু প্রকাশ করেছে।
এদিকে মার্কিন ডেমোক্র্যাট পাঁচ সিনেটর যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় নিয়ে পেন্টাগনের স্বচ্ছতা দাবি করেছেন। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের নেতৃত্বে তারা অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে দেওয়া চিঠিতে জানিয়েছেন, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার। অথচ এই তালিকায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা মেরামতের খরচের কোনো উল্লেখ নেই। সিনেটরদের মতে, এই সামরিক ব্যয় গোপন রাখা অগ্রহণযোগ্য। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো মেরামতে কত সময় লাগবে এবং বিকল্প স্থাপনা ব্যবহারে কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা জানতে চেয়েছেন সিনেটররা। তবে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মিত্র দেশগুলোর ঘাঁটি ও স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আঞ্চলিক অংশীদারদের ব্যয় বেড়েছে এবং মার্কিন সেনাসদস্যরাও ঝুঁকিতে পড়েছেন।
ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হলে সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়। তবে নির্বাচনের আগে বড় ধরনের কোনো হামলা না চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু উভয়ই ইঙ্গিত দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা এবং সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে তার এই সফর হলো। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তবে ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে তার আগে ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই বলে চলতি মাসে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ভ্যান্সের এ অবস্থান এবং হেগসেথের অঘোষিত সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তাদের দাবি, শিশুটিকে হত্যার সময় তার ইউনিট ঘটনাস্থলের আশপাশে সক্রিয় ছিল এবং ওই কমান্ডার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
ইসরায়েলি রাজনীতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে সমর্থন দিলেও, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন নির্বাচনের বাইরে অন্য দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতে আগ্রহী নন। নেতানিয়াহুর পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো অবস্থান নিচ্ছেন না বলেও জানান ভ্যান্স।
অপরদিকে, ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাব হত্যার ঘটনায় এক ইসরায়েলি সামরিক কমান্ডারের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব। তালিবের দাবি, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের বিষয়টি জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব। হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশনও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রতি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং কূটনীতিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ১০ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। এসব ঘটনায় স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে তেহরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, দুই দেশ বর্তমানে অভূতপূর্ব গভীর সহযোগিতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, আঞ্চলিক ইস্যু ছাড়াও লেবানন, ফিলিস্তিন, ইউক্রেন ও ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে তাদের আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, নাটোরে এক বাস-ট্রাক সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে পোষা বিড়াল হত্যার অভিযোগ নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়েরের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০