
ইউক্রেনের ড্রোনের গতি সীমিত করার পেছনে মার্কিন সরকারের ভূমিকা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক। মঙ্গলবার রাতে স্টারলিংক নেটওয়ার্কে গতিসীমা আরোপ করা হলে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলা ড্রোন ও অস্ত্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। মাস্ক সরাসরি মার্কিন সরকারের নির্দেশের কথা উল্লেখ না করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, স্টারলিংকের সামরিক সংস্করণ ‘স্টারশিল্ড’-এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে এবং এর ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মাস্কের ভাষ্যমতে, স্টারলিংক মূলত বেসামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য তৈরি একটি বাণিজ্যিক সেবা, যা আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহারের উপযুক্ত নয়। ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানিয়েছেন, স্টারলিংক সংযোগ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তিনি মাস্ককে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ড্রোনের ওপর থেকে গতিসীমা তুলে নিতে এবং ইউক্রেনকে সহায়তার ধারা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সরকার এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তনভ দাবি করেছেন, এই বিধিনিষেধের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে, যদিও তিনি কোনো প্রমাণ হাজির করেননি। শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের। স্টারলিংক বেসামরিক গ্রাহকদের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা দেয়। তবে বিষয়টি কেবল অনুভূতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর আরও জটিল দিক রয়েছে।
এরই মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, হয়তো কোনো কারিগরি ভুল বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সংযোগ সীমিত হয়েছে। তিনি দ্রুত সেবাটি পুরোপুরি চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির চুক্তি নিয়ে মার্কিন সরকারের প্রতি নিজের অসন্তোষের কথাও জানান জেলেনস্কি। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া সীমিত করার হুমকি দিয়েছিল, যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দাবি অস্বীকার করেছেন। বুধবার লন্ডন সফরে গিয়ে জেলেনস্কি যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমকর্মী পিয়ার্স মরগানকে বলেন, রাশিয়া থেকে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির চুক্তি করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাঁর বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতি হয়েছিল।
মঙ্গলবার রাতে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়া তীব্র হামলা চালায়। রাজধানী কিয়েভে নিহতের ঘটনার পাশাপাশি সামরিক যোগাযোগ ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার ফলে অন্তত ৬ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ড্রোন হামলার আগে কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। জেলেনস্কি এই ঘটনাকে রাশিয়ার অন্যতম বড় হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে অনেক ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে রুশ বাহিনী।
এসব ঘটনার মধ্যে লন্ডন সফররত ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ডাউনিং স্ট্রিটে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বার্নহাম তাকে আশ্বস্ত করেন যে, ইউক্রেনের পাশে যুক্তরাজ্য সবসময় অটল থাকবে। বৈঠকের পর ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে জানানো হয়, রাশিয়ার ড্রোন মোকাবেলায় ইউক্রেনে হালকা বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা হবে। লন্ডনে অবস্থানকালে জেলেনস্কি রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বার্নহাম জেলেনস্কিকে বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে আছি, আর এ অবস্থানের পরিবর্তন হবে না।’।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০