
আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭ উইকেট, হাতে ছিল ৯২ ওভারের পর্যাপ্ত সময়। তবে আফগানিস্তানের ব্যাটাররা ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে সেই ৯২ ওভার কাটিয়ে দেয় এবং মাত্র ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচটি ড্রয়ের পথে নিয়ে যায়। জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও মাঠ ছাড়তে হয়েছে অমিমাংসিত ফলের আক্ষেপে। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই ড্র নিশ্চিতভাবেই আক্ষেপে পোড়াবে নাজমুল হোসেনের দলকে। আমরা ম্যাচটি জিততে চেয়েছিলাম, কিন্তু ক্রিকেটে কখনো কখনো এমনটাই হয়।’। ক্যাচ, রান আউট, স্টাম্পিং মিস করে জয় হাতছাড়া বাংলাদেশের।
ম্যাচ পরবর্তী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত নিজের হতাশা গোপন করেননি। তিনি বলেন, জয় পাওয়া সম্ভব ছিল এবং ড্র হওয়াটা হতাশাজনক। তবে প্রতিপক্ষের প্রশংসা করে নাজমুল জানান, আফগানিস্তান সত্যিই দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে। বাংলাদেশ দলের পেসাররা ভালো বল করলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছেন স্পিনাররা। যদিও তারা চেষ্টা চালিয়ে গেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুযোগগুলো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। আমি আশা করেছিলাম, স্পিনাররাও ম্যাচে প্রভাব ফেলবে। এর আগে সেখানে সাদা বলের যে ম্যাচগুলো বাংলাদেশ খেলেছে, সেগুলোও ছিল দিবারাত্রির। ম্যাচসেরা লিটন দাস আবুধাবির গরমের বিষয়টিও সামনে এনেছেন, ‘সত্যিই খুব কঠিন ছিল।
তীব্র দাবদাহে ১৪০ ওভার উইকেটকিপিং করে নিজের মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন লিটন দাস। তিনি শুধু উইকেটের পেছনেই নন, ব্যাট হাতেও দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। টেস্টে প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে এক ম্যাচে দুটি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস এবং ৯টি ডিসমিসালের বিরল রেকর্ড গড়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন লিটন। নিজের ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর নেটে মাত্র একটি সেশন অনুশীলনই তার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে।
আবুধাবি টেস্টে সেঞ্চুরি হয়েছে মোট তিনটি, যার মধ্যে একটি লিটনের। এছাড়া রহমত শাহ ও সেদিকউল্লাহ আতাল আফগানিস্তানের হয়ে সেঞ্চুরি পেয়েছেন। লিটন ফিল্ডিংয়েও উজ্জ্বল ছিলেন। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক বলের সময় নেওয়া ক্যাচটিকে তিনি ম্যাচের সেরা ক্যাচ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য, এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদ হ্যাটট্রিকসহ মোট ৫টি উইকেট শিকার করেছিলেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচণ্ড গরমে পাঁচ দিনব্যাপী ম্যাচ খেলা যেকোনো দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই কষ্টকর পরিস্থিতিতে নিজের শক্তি ধরে রাখা এবং টানা পারফরম্যান্স বজায় রাখার বিষয়ে অধিনায়ক নাজমুল লিটনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে উইকেটের পেছনে লিটনের এমন ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের জন্য বড় পাওয়া বলে মনে করছেন নাজমুল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০