
আইন পেশায় সফল হওয়ার মূলমন্ত্র হলো অর্থের পেছনে না ছুটে শুরু থেকেই পেশাগত দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হওয়া। রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আয়োজিত ‘ফেলিসিটেশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান নবীন আইনজীবীদের এমন পরামর্শ দেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়টির গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি বা কোনো ধরনের শর্টকাটের পথ অনুসরণ না করে মেধা, সততা, নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই একজন আদর্শ আইনজীবী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা পদ্ধতিকে স্বচ্ছ ও কঠোর করার মূল উদ্দেশ্যই হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইন পেশায় প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। যারা সনদ পেয়েছেন, তারা কারও দয়া বা অনুকম্পায় নয়, বরং নিজেদের যোগ্যতার বলেই এ অবস্থানে এসেছেন।
পরীক্ষায় নেপোটিজমের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যদের সন্তানদেরও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নবীনদের নিজেদের মেধার ওপর আস্থা রেখে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে শুরুতে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। কর্মজীবনের শুরুতে কাজের পরিধি বা পারিশ্রমিক কম থাকলেও ধৈর্য ধরে পেশায় লেগে থাকতে হবে। অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি ও পারিশ্রমিক উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
পেশাগত নৈতিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি আইন পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি। আইনজীবীর কাজ কেবল অর্থের বিনিময়ে মামলা পরিচালনা নয়, বরং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও তাদের সামাজিক দায়িত্ব। তিনি নবীন আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান, পারিশ্রমিকের মামলার পাশাপাশি অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে কিছু মামলা পরিচালনার চেষ্টা করতে। নিজের আইনজীবী জীবনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সবকিছু অর্থের মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়।
নিয়মিত পড়াশোনা ও আইনচর্চার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকে। ভালো ড্রাফটিংসহ পেশাগত দক্ষতা অর্জনে নিয়মিত অধ্যবসায়ের প্রয়োজন। দেশে প্রচুর আইনজীবী থাকলেও পেশাগত প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই স্বীকার করে তিনি জানান, আইনজীবীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে এমন একটি আইনজীবী সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষা, মেধা ও নৈতিকতার কারণে এই পেশা আরও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে উঠবে। আইনজীবীদের এমনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএপির ডিপার্টমেন্ট অব ল’ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ড. নূর-ই মেডিনা সূরাইয়া জেসমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং স্কুল অব ল’-এর ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. এম. এ. বাকি খলিলি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির ‘ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পেশাগত নৈতিকতার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি কিংবা শর্টকাট পদ্ধতিতে দ্রুত অর্থবিত্ত অর্জনের চেষ্টা করা উচিত নয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০